।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মাঝেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার ২৬ মে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কয়েকটি নৌযান।
ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার রাতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কয়েকটি বোটে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বিমান হামলার মাধ্যমে দক্ষিণ ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন এ অভিযানের পক্ষে ‘আত্মরক্ষার’ যুক্তি দিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এমনকি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির খসড়াতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ‘আত্মরক্ষা’ এবং ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধ জারি রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় এই হামলা চালাল যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শিগগিরই কোনো চুক্তি হচ্ছে না।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের কাছে এই হামলা চালানো হয়। এই উপকূলীয় শহরটিতে ইরানের একটি বড় নৌ ঘাঁটি রয়েছে।
এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অভিযোগও উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার সময় দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। এর জবাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে জানান, ইরানের দুটি বোট এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
এই হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহান্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু এর পরপরই তিনি সুর বদল করেন এবং মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের এই বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেন।
সূত্র-এনডিটিভি/নিউইয়র্কটাইমস