।।বিকে রিপোর্ট।।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শাহবাগ মোড়ে আবস্থান নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানিয়ে সেখান থেকে সরে গেছেন।
শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।
একই সময় ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুকে পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে বলা হয়-ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সাথে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির একজন সংগঠক। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আগামীকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী ওই সময় সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এর আগে, শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছিলেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তাদের অবরোধের ফলে শাহবাগ এলাকায় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। আশপাশের সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট।
রাত ৮টার দিকে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গও করে দেয় পুলিশ। পরে তারা আবারও সেখানে জড়ো হন। আরও তিনঘণ্টা অবস্থানের পর তারা শাহবাগ ছাড়েন।
কিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে নতুন করে এ আন্দোলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার। সেদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দেয় সংগঠনটি।
বিকাল ৪টার দিকে সেই জমায়েত থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে মঞ্চের নেতাকর্মীদের, রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের এলাকা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরমধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজ থেকে জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেওয়া হয়। যেটির বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুলিশ তা অস্বীকার করে বার্তা পাঠায়।
পুলিশের মতো একই বক্তব্য এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকেও বলা হয়, আহতদের মধ্যে তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাউকে পায়নি।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। অবস্থান করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরপর নতুন কোনো কর্মসূচি না দিয়ে অবরোধ শেষ করেন তারা।