Breaking News:


শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধস: নিহত কমপক্ষে ৪০, নিখোঁজ ২১

  • ০৮:৫৮ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: ডয়েচে ভেলে

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২১ জন।

বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (ডিএমসি) বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) এক বিবৃতিতে জানায়, বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মধ্যাঞ্চলীয় চা উৎপাদনকারী জেলা বাদুল্লায়। সেখানে রাতের বেলা পাহাড়ের ঢাল ভেঙে ঘরবাড়ির ওপর ধসে ১৬ জন জীবন্ত চাপা পড়ে।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী নুওয়ারা এলিয়া জেলায় একইভাবে মাটি চাপা পড়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা অন্যান্য এলাকায় মারা গেছেন।

ডিএমসি বলছে, কাদাধসে ৪২৫টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কাজুড়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

ডিএমসি জানায়, শ্রীলঙ্কাজুড়ে নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কা বর্তমানে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে এবং নিম্নচাপের কারণে দ্বীপ রাষ্ট্রটির পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সরকার দেশব্যাপী দুই দিনের জন্য শেষ বর্ষের স্কুল পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আইনপ্রণেতারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ কারণে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের বাজেট বিতর্ক স্থগিত করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে আবহাওয়া-সংক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের জুনের পর সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে ডিএমসি। ওই সময় দেশটিতে ভারী বৃষ্টিতে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। গত ডিসেম্বর বন্যা ও ভূমিধসে ১৭ জন নিহত হন।

দেশটিতে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই বন্যায় দেশটিতে ২৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।

সেচকাজ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য শ্রীলঙ্কা মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে বন্যা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।

সূত্র: এএফপি।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech