Breaking News:


শিরোনাম :
সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করব ট্রাম্পের ভাষণ: ইরানের সামরিক সক্ষমতা চূর্ণ করেছি, বক্তব্য শেষ হতেই মিসাইল ছুড়ল ইরান মার্চে এসেছে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার সুনামগঞ্জে মজুদকৃত ২ হাজার ৮০ লিটার ডিজেল জব্দ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানিবাহী ৬ বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি: ইরানের রাষ্ট্রদূত সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক : পেলেন পাশে থাকার আশ্বাস বলিভিয়াকে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ইরাক

সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করব

  • ১১:৫৫ এএম, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

।।বিকে ডেস্ক।।
সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবেন বলে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার ১ এপ্রিল)সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরআগে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকাআউট করে বিরোধী দল।

তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে? আন্দোলন আমরা করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। তবে আমাদের ১১ দল একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নেব।

শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়। তবে বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য রায় চাওয়া হয়েছিল।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সংস্কারভিত্তিক হতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল—কমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে।

তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মূলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে।

এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছি।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তি—জনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় এখন তাদের সামনে একমাত্র পথ—জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া।
আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের মতো এবারও জনগণ তাদের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech