।। বিকে ডেস্ক ।।
বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় বাবা মেয়েসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে বাবা-মেয়ে, মাঠে কাজ করার সময় বরগুনায় এক কৃষক, মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও পিরোজপুরে তিন কৃষক, বরিশালে মাছের ঘেরে কাজ করতে গিয়ে এক স্কুলছাত্র এবং চাঁদপুরে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার ৫ জুন সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বজ্রপাতে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, উপজেলার মাদারকোল গ্রামের বাসিন্দা খালিদুর রহমান (২৯) ও তার মেয়ে খাদিজা আক্তার (১০)।
বরগুনায় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই কৃষক সদর উপজেলার ৬নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের মো. সেকান্দরের ছেলে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুকটানা নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বরগুনায় বৃষ্টি শুরু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটে। এ সময় বুড়িরচর ইউনিয়নের মস্তুকটা এলাকার কৃষক মহিউদ্দিন তার কৃষি জমিতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। পরে হঠাৎ ওই এলাকায় একটি বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মহিউদ্দিনের মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ফসলের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মজিবর সরদার (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশে মেঘ জমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির পাশের মাঠে বাঁধা গরু আনতে যান মজিবর সরদার। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মুছা হাওলাদার (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মৃধাপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তানভীর খান (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানভীর খান ওই গ্রামের ওয়াসিম খানের ছেলে। তিনি চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানভীর খান বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহানাজ পারভীন সেতু তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বজ্রপাতে নবী হোসেন মিজি (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় নবী হোসেন মিজি পার্শ্ববর্তী ভোটাল গ্রাম থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ধান ক্ষেতের পাশ দিয়ে বাড়ির কাছাকাছি আসলে বজ্রপাতে তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জিলন জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এসময়ে নবী হোসেন মিজি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাড়ির ধান ক্ষেতের পাশ দিয়ে বাড়ির কাছাকাছি আসলে বজ্রপাতে সে লুটিয়ে পড়ে।
গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নিহতের পরিবারকে আমার অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।