Breaking News:


শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী আগ্রাসন’ বন্ধ করতে বললো ইরান- রাশিয়া, কিউবার নিন্দা   নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী আটক : ট্রাম্পের কাছে তাদের জীবিত থাকার প্রমাণ চাইলো ভেনেজুয়েলা মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাসনিম জারা ঢাকায় জামায়াত মনোনীত ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : আগামীকাল শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬- জারি: চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন সৌদির সীমান্তবর্তী ইয়েমেনে তীব্র লড়াই ও সংঘর্ষ : বিমান হামলায় ২০ জন নিহত খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত

সৌদির সীমান্তবর্তী ইয়েমেনে তীব্র লড়াই ও সংঘর্ষ : বিমান হামলায় ২০ জন নিহত

  • আপলোড টাইম : ১১:১৬ এএম, শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
সৌদির সীমান্তবর্তী ইয়েমেনের হারদামাউত প্রদেশে তীব্র লড়াই ও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইয়েমেনে হারদামাউত প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসির যোদ্ধা ও অবকাঠামোর ওপর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।

শনিবার ৩ জানুয়ারী সামরিক ঘাঁটিতে জোটের বিমান হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে বলে এক রিপোর্টে জানায় আল জাজিরা।

এসটিসির একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে হাদরামাউতে দুটি সামরিক ঘাঁটিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ২০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

ওয়াদি হাদরামাউত এবং হাদরামাউত মরুভূমির এসটিসির প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক বলেছেন, গভর্নরেটের বৃহত্তম আল-খাশা সামরিক শিবিরে সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

সেয়ুন ঘাঁটিতেও মারাত্মক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আল-খাশার কাছের একটি গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ খামেস বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলি এসটিসি যোদ্ধাদের তাড়া করছে।

আমরা কেবল চৌকিতে আছড়ে পড়া ঝলকানি এবং বিস্ফোরণ দেখতে পাচ্ছি, যা [সৌদি-সমর্থিত] বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার পথ পরিষ্কার করছে, তিনি বলেন।

এর আগে শুক্রবার ২ জানুয়ারী আল-খাসাহর ক্যাম্প লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যাতে ৭ জন নিহত হয়।
এসটিসি এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গোষ্ঠীটির ওয়াদি হারদামাউত এবং হারদামাউত মরুভূমি অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক জানিয়েছেন, হারদাউমাউতকে মুক্ত করতে প্রদেশটির গভর্নর সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এসটিসির যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব।

এরআগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হারদামাউতের নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান শুরু করে। এরপর গত সপ্তাহে প্রদেশরটির মুকুল্লা বন্দরে প্রথমে বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে এসটিসির যোদ্ধারা ওই অঞ্চল দখল করে নেয়। তারা ইয়েমেনের একটি অংশ নিয়ে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। এর নাম দেওয়া হবে ‘সাউথ আরাবিয়া’

হারদামাউত প্রদেশের গভর্নর এরআগে জানিয়েছিলেন, প্রদেশটি থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরিয়ে দিয়ে সামরিক অবকাঠামোগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা ‘শান্তিপূর্ণ’ অভিযান চালাবেন। এসটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ অভিযানের কথা বলা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি বিমান হামলা চালায়। এছাড়া সৌদি ‘শান্তির ফাঁকা বুলি’ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমর আল-বিদ নামে এসটিসির এ কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ অভিযানের ঘোষণা দিয়ে জেনেশুনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভুলপথে চালিত করেছ। আসলে এ অভিযান শান্তিপূর্ণ রাখার কোনো ইচ্ছাই তাদের ছিল না। এর প্রমাণ হলো তারা ঘোষণার কয়েক মিনিট পর সাতবার বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রদেশটি মূলত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এসটিসি অঞ্চলটি দখল করে ইয়েমেনকে দুই ভাগ করে পুরো দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে আলাদা স্বাধীন দেশ গঠন করতে চায়। এতে তাদের সহায়তা করছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু গত বুধবার আমিরাতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সব সেনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয় ইয়েমেন সরকার। এতে সমর্থন জানায় সৌদি। এরপর আমিরাত তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসির হারদামাউত অঞ্চলের প্রধান জানিয়েছেন, সৌদির বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। সেখানে স্থল হামলার চেষ্টাও চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এসটিসির যোদ্ধারা। এতে করে সেখানে তীব্র লড়াই শুরু হয়ে যায়।

ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদির রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের বলেছেন, এসটিসির যোদ্ধাদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর আগে তারা তাদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করেছেন। কিন্তু আলোচনায় এসটিসি কোনো স্বদিচ্ছা দেখায়নি। এর বদলে সবকিছুতে বাধা দিয়েছে। সঙ্গে হারদামাউত এবং আল-মাহরা প্রদেশে নিজেদের অবস্থা্ন শক্তিশালী করেছে তারা।

সূত্র: আলজাজিরা/ মিডেলইস্ট আই

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech