।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হংকংয়ের তাই পো এলাকায় অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৯ জন মানুষ।
বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। আগুন এখনো নেভেনি। ইতোমধ্যে দেশটির পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
গতকাল বুধবার ২৬ নভেম্বর ওই আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে আকাশে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। আগুন দ্রুত কমপ্লেক্সের আটটি ব্লকের মধ্যে সাতটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
হংকং কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এই আগুনে মোট ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪০ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং চারজন হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া, উদ্ধার হওয়া আরও ৪৫ জন সংকটজনক অবস্থায় আছেন।
আগুনের মাত্রা এত ভয়াবহ যে কমপ্লেক্সটিতে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলছে।
কর্মকর্তারা জানান, শহরটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এটি। শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াং ফুক কোর্টে মোট আটটি ব্লক এবং ১,৯০০–এর বেশি ফ্ল্যাট রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনজন পুরুষকে অগ্নিকাণ্ড-সম্পর্কিত ‘হত্যাকাণ্ড’-এর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ৯০০-র বেশি লোক অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বলে লি জানান।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ডেরেক আর্মস্ট্রং চ্যান জানান, রাতের অন্ধকার তাদের উদ্ধার অভিযানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দমকলকর্মীরা এখনও দুটি ভবনে পৌঁছাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে মোট আটটি ভবন রয়েছে। ভবনগুলোয় মোট অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ২ হাজার। এসব অ্যাপার্টমেন্টে ৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি বাসিন্দা বাস করেন। আগুন লাগা ভবনের ভেতরে কতজন আটকা পড়েছেন, তা জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তারা।
অগ্নিনির্বাপক বিভাগের উপপরিচালক ডেরেক আর্মস্ট্রং চান বলেন, ঘটনাস্থলের তাপমাত্রা খুব বেশি, এবং কয়েকটি ফ্লোরে যেসব লোক সাহায্য চেয়েছেন, সেখানে আমাদের পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাতাস ও উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের কারণে আগুন এক ভবন থেকে আরেক ভবনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তদন্তাধীন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে “দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত অগ্নিনির্বাপক কর্মীও রয়েছেন” বলে রাষ্ট্র মাধ্যম জানিয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আগুন নেভাতে ও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন।
শহরের প্রধান নির্বাহী লি বলেন, তিনি “গভীরভাবে শোকাহত” এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় কাজ করছে। ‘বের হতে সাহস পাচ্ছি না’
ঘনবসতিপূর্ণ হংকংয়ে একসময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়মিতই ঘটত, বিশেষ করে দরিদ্র এলাকায়। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এমন ঘটনা অনেক কমে গেছে।
সূত্র: বিবিসি/সিএনএন