।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
জাতিসংঘে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের নতুন প্রস্তাব পাস হয়েছে।
শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ১২ সেপ্টেম্ব (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ ভোট হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সাধারণ পরিষদের ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্র। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ১০টি।
সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল ফ্রান্স ও সৌদি আরব। ইসরায়েলের পরম মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এছাড়াও ভোটদানে বিরত ছিল ১২টি দেশ।
এই প্রস্তাবকে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ বলা হচ্ছে। এই ঘোষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও অনাহারও অমানবিক। এতে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হলে সেখানে হামাসের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করে গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট, সময়সীমা-সাপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এরই মধ্যে আরব লিগ প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। গত জুলাইয়ে জাতিসংঘের ১৭টি দেশ এতে সই করেছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গাজার যুদ্ধ থামানো জরুরি। এ জন্য হামাসকে অবশ্যই ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) কাছে ক্ষমতা ও অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের এই সমর্থনকে ইসরায়েল ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন বলেন, ঘোষণায় হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ না করাই প্রমাণ করে যে সাধারণ পরিষদ বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এক রাজনৈতিক সার্কাসে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল–শেখ একে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
এমন সময়ে প্রস্তাবটি পাস হলো যখন গাজায় ইসরায়েলের তীব্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত ২৩ মাসে ইসরায়েলি হামলায় ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশিই বেসামরিক নারী ও শিশু।
এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজা নগরী দখলের লক্ষ্য নিয়ে তীব্র অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা, এতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে নতুন পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তিতে সই করেন, যার আওতায় দখলকৃত এলাকায় ৩ হাজার ৪০০ নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হবে। এর ফলে পশ্চিম তীর কার্যত দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ আরও সংকীর্ণ হবে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ এ বিষয়ে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহুর এ পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলকে ‘নরকের পথে ঠেলে দিচ্ছে’। একই সঙ্গে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের দ্রুত এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।