।।বিকে রিপোর্ট।।
নিত্যপণ্যের বাজারে চার-পাঁচটি বড় কর্পোরেট গ্রুপের পাশাপাশি ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাব এতটাই গভীর যে, সিন্ডিকেট ভাঙা এখন অত্যন্ত কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সিনিয়র সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
সোমবার ২৪ নভেম্বর দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ক্যাব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় খাদ্য সমৃদ্ধকরণ ও ভোক্তা অধিকার শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে চার-পাঁচটি বড় করপোরেট গ্রুপের পাশাপাশি ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাব এতটাই গভীর যে, সিন্ডিকেট ভাঙা এখন অত্যন্ত কঠিন।
বাজার অস্থিরতার পেছনে দালালচক্র, আড়তদার ও অগণিত শক্তি সক্রিয়। সঠিক ব্যবস্থা না নিলে তাদের আধিপত্য কমবে না।
ক্যাব সভাপতি বলেন, খোলা ভোজ্যতেল ভোক্তার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যপণ্যের একটি। এতে ভেজাল, নিম্নমান ও নকল তেল মেশানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি সংস্থার ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না; ক্যাবকে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ও জনসচেতনতায় আরও সক্রিয় হতে হবে। প্যাকেটজাত তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছায় নিয়ম মানতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি খোলা তেলবাণিজ্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারণা চালাতে হবে।
এ এইচ এম সফিকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট চক্র কৃষিঋণ বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রকৃত কৃষক ঋণ না পেয়ে উচ্চ সুদে দাদন নিয়ে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আলুর বাজারে বিশৃঙ্খলা, ভেজাল বীজ, সার সিন্ডিকেট, পরিবহনে চাঁদাবাজি—এসব সমস্যা বহুদিনের। এসব ভাঙতে হলে ক্যাব সদস্যদের মাঠে নামতে হবে। শুধু পরিচয় দেখিয়ে বৈঠক করলে কাজ হবে না।
কর্মশালার বিশেষ অতিথি বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ বলেন, ক্যাব ভোক্তা অধিকার ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে যে অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করে তা জনস্বার্থে অত্যন্ত কার্যকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাব যেহেতু মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরে, তাই জনগণ তাদের তথ্য দ্রুতই গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। সঞ্চালনা করেন জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন গেইনের প্রকল্প সমন্বয়কারী লাইলুন নাহার। প্রশিক্ষণে বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আট জেলার ক্যাব নেতারা অংশ নেন।