।।বিকে রিপোর্ট।।
গতকাল বুধবার মধ্যরাত ৩টার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সারাদেশে প্রায় ৩ বার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রিখটার স্কেলে কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মাঝারি বা হালকা।
এর মধ্যে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয় বুধবার রাত ৩টা ২৯ মিনিটে। টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ ভূমিকম্পে কেঁপেছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ শহর। টেকনাফে খুব অল্প ঝাঁকুনি দেওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ এটি টের পাননি।
এরপর রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটি মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকেই টের পাননি। সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মনিপুরে।
এরপর আজ বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৃতীয় কম্পনটি অনুভূত হয়। যার মাত্রা ছিল ৩.৬। ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে। এটা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের পর সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায় এ ভূমিকম্পটি ছিল ‘আফটার শক’। বড় ভমিকম্পের পর এক বা একাধিক মৃদু ভূমিকম্প হওয়াকে ‘আফটার শক’ বলা হয়।
উল্লেখ্য এর আগে গত শুক্রবার ২১ নভেম্বর সকালে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে টির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত হয়। আহত হয় ছয়শ’র বেশি মানুষ। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এ ছাড়া কিছু ভবন হেলে পড়ে ও ফাটল দেখা দেয়।
এরপর থেকে শনিবার রাতের মধ্যে প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার মৃদু ভূ-কম্পন অনুভুত হয়।