Breaking News:


শিরোনাম :
তিন দফায় সক্রিয় হচ্ছে বিরোধী জোট ভোটের কালি মুছের যাওয়ার আগেই প্রতিশ্রিুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছিঃ প্রধানমন্ত্রী ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আইএমএফের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ২জনের মৃত্যু জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড: আজও রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হবে কোথায়ও বলা হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী

ট্রাম্পের আপত্তির পরও ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি দিতে চায় রাশিয়া, দিল্লিতে পুতিনের ঘোষণা

  • ০১:১৭ পিএম, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
ছবি: বিবিসি বাংলা

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দুদিনের ভারত সফরে এসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে তার দেশ ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মধ্যেও রুশ তেল কেনা বন্ধ না করায় ভারতের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিশ্রুতি এলো।

শুক্রবার ৫ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে পুতিন এ ঘোষণা দেন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে উঠে এসেছে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও। তবে মোদী-পুতিন বৈঠকে যুদ্ধবিমান সরবরাহসহ কয়েকটি সামরিক চুক্তি হবে বলে মনে করা হলেও বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সেরকম বড় কোনো চুক্তিই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ঘোষণা করেননি।

শুক্রবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী ও ভ্লাদিমির পুতিন।

ওই বৈঠকের শেষে দুই নেতার সামনেই সংবাদ সম্মেলনে একাধিক সমঝোতাপত্র বিনিময় করেন ভারত ও রাশিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা।

সব সমঝোতাই বাণিজ্য বৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে বলে বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণ, মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে কাজ করার জন্য ভারতীয় নাবিকদের প্রশিক্ষণ, নতুন জাহাজ পথ গড়ে তুলতে বিনিয়োগ, বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত ইত্যাদি ক্ষেত্রের সমঝোতা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী জানান যে মি. পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে গুরুত্ব পেয়েছ অর্থনৈতিক সহযোগিতা।

ভারত ও রাশিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। রাশিয়ায় ভারতের দুটি নতুন দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত এবং দুটি নতুন পর্যটক ভিসা প্রকল্পও চূড়ান্ত হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বলতে গিয়ে মি. মোদী বলেন, “ভারত প্রথম থেকেই শান্তির পক্ষে থেকেছে,” এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজার যে প্রচেষ্টা চলছে।

মি. মোদীর কথায়, “ইউক্রেন সংকটের পর থেকে আমাদের মধ্যে লাগাতার কথা হয়। আপনিও (মি. পুতিনকে উদ্দেশ্য করে) প্রকৃত বন্ধুর মতো প্রতিটা বিষয় আমাকে জানিয়েছেন। এই পারস্পরিক বিশ্বাসই আমাদের সম্পর্কের বড় শক্তি”।

এছাড়াও ভারত যে বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, তাতেও রাশিয়া সহযোগিতা করছে বলে জানান মি. পুতিন।

মোদি পুতিনের প্রতি ‘অটল প্রতিশ্রুতি’র জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ভারত-রাশিয়া অংশীদারত্বের শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তবে তেলের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ করেননি তিনি।

তিনি বলেন, ছয়টির মধ্যে দুটি ইউনিট ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, বাকি চারটি নির্মীয়মান অবস্থায় আছে। পুরোপুরি কাজ শুরু করলে এটি ভারতের স্বচ্ছ ও সাধ্যের মধ্যে মূল্যে বিদ্যুতের যে চাহিদা আছে, তাতে একটা বড় অবদান রাখবে।

আমরা ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ওষুধ ও কৃষি শিল্পের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছি, জানিয়েছেন মি. পুতিন।

ভারতের সঙ্গে যে আলাপ আলোচনা হয়েছে এবং যে-সব সমঝোতা সই হয়েছে, তাতে রাশিয়া থেকে তার সঙ্গে আসা প্রতিনিধিদল সন্তুষ্ট বলে মন্তব্য করে নিজের ভাষণ শেষ করেন মি. পুতিন।

২০২৪ সালে রাশিয়া ভারতের মোট অশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩৬ শতাংশ সরবরাহ করেছে। চাপের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত রুশ তেল আমদানি কিছুটা কমিয়েছে।

বৈঠকে পুতিন মোদিকে ইউক্রেন পরিস্থিতি ও শান্তি প্রচেষ্টা সম্পর্কে ‘বিস্তারিত তথ্য’ দিয়েছেন বলে জানান। মোদি বলেন, ইউক্রেন নিয়ে ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে; মহামারির আগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ। তবে ভারতের রফতানি মাত্র ৪ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। দুই নেতা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচিতে সম্মত হয়েছেন। চাকরি, স্বাস্থ্য, শিপিং ও রাসায়নিক খাতে একাধিক চুক্তি সই হয়েছে।

প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্যই ছিল শীর্ষ বৈঠকের মূল বিষয়। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী, যদিও ২০১৯-২৩ সালে রুশ অস্ত্রের অংশ কমে ৩৬ শতাংশে নেমেছে। বৈঠকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পুতিনের প্রথম ভারত সফরে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার ও ২১ তোপের সালামি দেওয়া হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় নানা কার্যক্রম। প্রথমেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয় ভারতের সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

এরপরে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সমাধিস্থল রাজঘাটে গিয়ে তার স্মৃতি সৌধে মালা দেন মি. পুতিন।

তারপরেই ছিল এই সফরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ – মি. মোদী ও মি. পুতিনের বৈঠক।

দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এই বৈঠক শুরু হয় বেলা ১২টার দিকে। এরপরে সেখানেই সাংবাদিকদের সামনে প্রথমে সমঝোতাপত্র বিনিময় করা হয় এবং পরে সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেন দুই শীর্ষ নেতা।

বিকেলে ভারত-রাশিয়া বিজনেস ফোরামের বৈঠকে যোগ দেন দুই শীর্ষ নেতা।

এরপরে রাশিয়ার সরকারি টিভি চ্যানেল রাশিয়া টুডে-র দিল্লি সংবাদ ব্যুরো উদ্বোধন করবেন মি. পুতিন। সেখান থেকে তার আবারও রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার কথা। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ মি. পুতিনের সম্মানের এক রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করেছেন।

ভারতীয় সময় রাত নয়টায় দিল্লি থেকে আবারও উড়ে যাবেন ভ্লাদিমির পুতিন। সূত্র-বিবিসি বাংলা।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech