।।বিকে রিপোর্ট।।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল সাহিত্য, গান বা শিল্পের সাধক ছিলেন না, বরং সমাজ, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত গভীর ও দূরদর্শী- বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার ৮ মে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন সৃজনশীল মানুষের পক্ষে চলমান রাজনীতির উত্তাল তরঙ্গের মধ্যেও একটা গভীর পর্যবেক্ষণ, জীবনবোধ ও সমাজ সচেতনতা রাখা সম্ভব, রবীন্দ্রনাথ তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মনোজগৎ ছিল অত্যন্ত সতর্ক। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর যখন সারা বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক দর্শনে উদ্বেলিত, তখন তিনি রাশিয়া সফর শেষে ‘রাশিয়ার চিঠি’তে সাম্যবাদের যান্ত্রিকতা ও মানুষের প্রকৃতির চিরায়ত গতির বিরোধের কথা তুলে ধরেছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর মতো নেতাদের ওপরও তার চিন্তার গভীর প্রভাব ছিল।’
বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সংলাপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞানের অসীম অগ্রযাত্রার মধ্যেও বিজ্ঞানের বাইরের বিশাল জগৎ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের যে ভাবনা ছিল, তা আজও আমাদের বিস্মিত করে। বর্তমানের অত্যাধুনিক টেলিস্কোপে আমরা মহাবিশ্বের যে অংশ দেখি, তার বাইরেও যে কোটি কোটি মহাবিশ্ব রয়েছে- আইনস্টাইনকে তিনি সেই অজানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।’
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।