শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

  • ১২:৫১ পিএম, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে মানুষের ঢল নেমেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই শীতের কুয়াশা মোড়ানো স্তব্ধতা ভেঙে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে।

মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীর প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে তারা ফুল হাতে উপস্থিত হন, সময়ের সঙ্গে ভিড় ক্রমেই ঘন হয়ে ওঠে।

শুরুতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান উপদেষ্টা।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম শেষ হতেই কূটনৈতিকসহ ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাধারণ জনগণ প্রবেশের সুযোগ পায়। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যানার ও দলের প্রতিনিধির সঙ্গে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এরপর স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করতে থাকে সাধারণ জনগন। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। হাতে জাতীয় পতাকা ও ফুল আর লাল-সবুজ পোশাকের আধিক্য পুরো প্রাঙ্গণকে উদ্দীপনাময় করে তোলে।

বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করছে। এদের হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন শ্রদ্ধা ও ফুলের পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে। এতে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে বীর শহীদদের বেদী।

স্মৃতিসৌধকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।

এদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় লাল-সবুজের রঙে সাজানো ব্যানার, ফেস্টুন ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গান পুরো এলাকা উৎসবমুখর করে তোলে। শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্তম্ভ কেন্দ্রিক মানুষের উচ্ছ্বাস, চোখে-মুখে গর্বের ঝিলিক এবং শ্রদ্ধার মিলনস্থল হিসেবে স্মৃতিসৌধ জনতার ঢলে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি দিন নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিজয় দিবস বাঙালি জাতিকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার চিরন্তন বার্তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech