।।বিকে রিপোর্ট।।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অগ্রগতির তথ্য জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শনিবার ২০ ডিসেম্বর বিকেলে শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই সময়সীমা দেওয়া হয়। সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয়, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
পরে সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে তাকে দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন।
তারা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। ফলে শাহবাগ ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ ছাড়লে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, হাদির ওপর হামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘাতকদের শনাক্ত করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বলেন, হাদিকে গুলি করার ১৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রাষ্ট্র এখনও ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারেনি। তারা দাবি করেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে আমরা সন্দেহ করি না। তবে, কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা যাবে না। রাষ্ট্র কি এখনও বলেছে, কে বা কারা হত্যা করেছে? রাষ্ট্র ওসমান হাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি।
হাদি হত্যার প্রতিবাদে ও দায়ীদের গ্রেপ্তার-বিচারের দাবিতে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘দিল্লি যাদের মামার বাড়ি, বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি’; ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘বিচার বিচার বিচার,হাদি হত্যার বিচার চাই’; ‘সুশীলতার দিন শেষ, বিচার চায় বাংলাদেশ’- এসব স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে পুরো শাহবাগ এলাকা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্তের ষড়যন্ত্র রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারা চাইছে ওসমান হাদি যে লড়াইটা শুরু করেছিলেন, সেটা যেন কোনোভাবেই ফোকাসে না থাকে। এ জন্য দেখবেন বিভিন্ন লোক বিভিন্ন জায়গায় স্যাবোটাজ (নাশকতা) করা শুরু করে দিয়েছে। আমরা কি তাদের সেই সুযোগ দেব? আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে খুনিদের গ্রেপ্তার করা। এরপর সব আলাপ। আলাপ শুরুই হবে খুনিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। এর আগে কোনো আলাপ চলবে না।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ সময় পুলিশ, সোয়াত, ডিবি, র্যাব ও বিজিবির সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়। দাফনের আগে থেকেই মাজার ও মসজিদ এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।