Breaking News:


শিরোনাম :
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬ গুম-খুনের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই, দেশের বিষয়টি বিবেচনায় সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ১০ ‘রেজাল্ট দেওয়ার জন্যই কি আমার জন্ম’ চিরকুট লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘জামায়াত জোট থেকে সরে আসার কারণ আদর্শগত-রাজনৈতিক: ইসলামী আন্দোলন উপসাগরীয় মিত্রদের হস্তক্ষেপে ইরানে হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প নির্বাচন ও রমাজন সামনে রেখে রেমিট্যান্সে চাঙাভাব খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’, তদন্তের দাবী কররেন এফএম সিদ্দিকী গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিন, হ্যাঁ ভোট দিন : উপদেষ্টা আদিলুর

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’, তদন্তের দাবী কররেন এফএম সিদ্দিকী

  • আপলোড টাইম : ১০:৪২ এএম, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এফ এম সিদ্দিক। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘অবহেলার’ বিষয়টি তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি সংবদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. এ এফ এম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, লিভার রোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট সেবনের ফলে তার লিভারের অবস্থা দ্রুত সিরোসিসে রূপ নেয়, যা কার্যত ‘স্লো পয়জন’ এর মতো কাজ করেছে।

এফএম সিদ্দিক বলেন, এই অবহেলার পথ ধরে জীবনের শেষ সময়ে যে ‘অবর্ণনীয় কষ্ট’ খালেদা জিয়া ভোগ করেছেন, এটা তার ‘প্রাপ্য ছিল না’।

আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলার’ তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরামর্শ দেন তিনি।

সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন? এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে নিয়ে গিয়েছিলেন? এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা তাদের উপর বর্তায় কি-না।

ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি-না।

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ে খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কী কারণে হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল?

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র আইনগতভাবে জব্দ করার পরামর্শও শোকসভায় দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের অক্টোবরে হাই কোর্টে আপিল শুনানি শেষে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর।

এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আরও সাত বছরের সাজা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের। তিনি তখনও পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে ছিলেন।

কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয় তখনকর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলে, যা নিয়ে বিএনপি তখন আপত্তি তুলেছিল।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই বছরের ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন খালেদা।

তৎকালীন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলার’ অভিযোগ করছেন এফএম সিদ্দিকী।

লিভার রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে দেওয়া ‘ওষুধ প্রয়োগে অবহেলা’, প্রয়োজনীয় ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা’ এবং ডায়াবেটিস ও আর্থরাইটিস চিকিৎসায় ‘অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ’ থাকার কথা বলছেন তার চিকিৎসক দলের এই সদস্য।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিভিন্ন পরিক্রমা তুলে ধরে এফএম সিদ্দিকী বলেন, ১২ বছর ধরে তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ভূমিকা রাখলেও একটি টিম নিয়ে তার সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন, ২০২১ সালের এপ্রিলে। যখন কোভিড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন।

“পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পাই যে, ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসক দল উনাকে মেথোট্রেক্সেট নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছিলেন। যেটা নির্দেশ দেওয়া ছিল নিয়মিত খাওয়ার জন্য।

“অর্থাৎ, উনি ওই মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকদের অধীনে যতদিন ছিলেন, তারা ওই ট্যাবলেটটি উনাকে খাইয়ে গিয়েছেন।”

রিউমাটেড আর্থরাইটিসে আক্রান্ত রোগীকে এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে লিভার ঠিকমত কাজ করছে কি-না, সেই পরীক্ষার দরকার হলেও তা না করার কথা তুলে ধরেন এই মেডিসিন ও বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, “রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসে যারা আক্রান্ত থাকেন, তাদেরকে মেথোট্রেক্সেট এই ওষুধটা দিতে হয়। অর্থাৎ এটা হচ্ছে, একটা চিকিৎসার অংশ যেটা উনি পাবেন।

“কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যারা ওই ওষুধটা খাবেন, তাদের লিভার নিয়মিত টেস্ট করে দেখতে হবে, ওই ওষুধটা লিভারের কোনো ক্ষতি করছে কি-না। যেমন, রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসের রোগী ব্যথার ওষুধ খেলে, নিয়মিত কিডনি টেস্ট করে দেখতে হয় যে, ব্যাথার ওষুধটি কিডনির কোনো ক্ষতি করছে কি-না।”

সূত্র: বিডিনিউজ।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech