Breaking News:


শিরোনাম :
২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করতেই কৃষক কার্ড : প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, গরমের অনুভূতিও বেশি থাকতে পারে নববর্ষ বরণে এনসিপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা ইতালির মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নারী সেনাপ্রধান নিয়োগ দিল অস্ট্রেলিয়া হাম উপসর্গে বরিশালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান

‘রেজাল্ট দেওয়ার জন্যই কি আমার জন্ম’ চিরকুট লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

  • ১১:৪৮ এএম, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
‘রেজাল্ট দেওয়ার জন্যই কি আমার জন্ম? শুধু ভালো রেজাল্টের বিনিময়েই তো আমার বড় হওয়া। তাই আমি আমার শেষ রেজাল্ট দিচ্ছি’—এমন হৃদয়বিদারক চিরকুট রেখে আত্মহত্যা করেছে হুমায়রা আক্তার মিম নামে এক স্কুলছাত্রী।

শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিম ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের জিয়বাড়ী গ্রামের মো. হুমায়ুন কবিরের মেয়ে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের চোখে-মুখে শুধু বিস্ময় আর নিঃশব্দ কান্না।

জানা গেছে, অভাবের সংসারে বাবা-মা দুজনই ঢাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত থাকায় পড়াশোনার জন্য ভাই ফেরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে মিম চাচা হারুনুর রশিদের বাড়িতে থাকতো। সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব ছিল চাচার ওপর।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিম পড়াশোনায় মেধাবী ছাত্রী ছিল। সদ্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সে শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। কিন্তু ভালো ফলের চাপ, কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের বিষয়টি তাকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কোচিংয়ে ভর্তি ও অনলাইনে ক্লাস করার জন্য একটি স্মার্টফোন কেনা নিয়ে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটি হয় তার। ফোনালাপ শেষে কান্নাকাটি করতে করতে নিজের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় মিম। পাশের কক্ষে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকা ভাই ফেরদৌস ধারণা করেছিল, কান্নার পর হয়তো বোন ঘুমিয়ে পড়েছে।

কিন্তু রাতের খাবারের সময় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাক দিয়ে উকি দেয় ফেরদৌস। তখনই তার চোখে পড়ে মিম গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। আতঙ্কে সে চাচা-চাচিকে ডেকে আনলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানেই মিমের ঝুলন্ত মরদেহের পাশে একটি সাদা কাগজে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়।

মিমের ভাই ফেরদৌস জানায়, সে যে কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিল, সেখানে যেতে চাইত না। এই বিষয়টি নিয়ে বাবার সঙ্গে তার কথা হচ্ছিল। অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ফোনও চেয়েছিল। কথা কাটাকাটির পর কান্না করতে করতে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে পড়েছে। পরে ডাকতে গিয়ে দেখি সব শেষ।

এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে পড়াশোনাজনিত মানসিক চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সংকলিত।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech