।।বিকে রিপোর্ট।।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে গত ৫৩ দিনে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২৭৪টি।
গত ১২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত এসব সহিংসতা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। একইসঙ্গে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের তথ্যও দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এমন সংঘর্ষের সংখ্যা ৮৯টি।
সোমবার ২ ফেব্রুয়ারী প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি, প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা ১৫টি এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাঁচটি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা পাওয়া গেছে তিনটি।
‘এসময়ে নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ছিল ১৭টি। এছাড়া হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা একটি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সহিংসতার ঘটনা ৭০টি।’
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর আগের তিন নির্বাচনের সময়কার সহিংসতার তুলনা করে বলেছে, সবশেষ তিনটি সংসদ নির্বাচনের সহিংসতার চিত্রেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার মোট ঘটনা ছিল ৫৩০টি, একাদশ নির্বাচনে ৪১৪টি এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৪টিতে।
দশম সংসদ নির্বাচনের সময়ে আহত হন ৩১৫ জন, একাদশ নির্বাচনে আহতের সংখ্যা ছিল ৭৮০ জন এবং দ্বাদশ নির্বাচনে আহত হন ৪৬০ জন। নিহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৫, ২২ ও ৬ জন।
যানবাহন ও স্থাপনায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ক্ষেত্রেও ওই নির্বাচনের সময়গুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়। তবে দশম সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু ঘটনায় সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো তথ্যে বলা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি নিক্ষেপের ঘটনাও বিভিন্ন নির্বাচনি সময়ে নথিভুক্ত হয়েছে।