।।মোঃ আকরাম হোসেন।।
ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে অম্লান করে রাখার আয়োজন অমর একুশে বইমেলার ২৫তম দিন ছিল পেরিয়ে গেলো। ধীরে ধীরে বিদায় ঘন্টা বাজছে মেলা প্রাঙ্গনে।
মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৩টায় মেলা শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আজ মেলায় নতুন বই এসেছে ১০১টি।
বইমেলার মূলমঞ্চে ‘গণ-অভ্যুত্থান, গ্রাফিতি এবং অপরাপর ভিজ্যুয়াল কালচার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এদিন বিকেল ৪টায়। মুনেম ওয়াসিফ এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন তাসলিমা আখতার এবং কামার আহমাদ সাইমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই ও শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয় আজ। ৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুণিজন স্মৃতি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়। মূলত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক বই প্রকাশ, প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা বই, গুণমান বিচারে সর্বাধিক শিশুতোষ বই, নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এবারের বইমেলায় নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে ‘বাতিঘর’। এছাড়া এক ইউনিটের স্টল হিসেবে ‘মাকতাবাতুল ইসলাম’ এবং দুই ও চার ইউনিটের স্টল হিসেবে ‘গ্রন্থিক প্রকাশন’ এই পুরস্কার পাচ্ছে।
গত বছরের বইমেলায় প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ‘কথাপ্রকাশ’-কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার এবং গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ‘কাকাতুয়া’-কে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আর গত বছরের মেলায় গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠক সমাবেশ’ (প্লেটো জীবন ও দর্শন-আমিনুল ইসলাম ভুইয়া), ‘ঐতিহ্য’ (ভাষাশহিদ আবুল বরকত নেপথ্য-কথা-বদরুদ্দোজা হারুন) এবং ‘কথাপ্রকাশ’-কে (গোরস্তানের পদ্য স্মৃতি ও জীবনস্বপ্ন-সিরাজ সালেকীন) মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আগামী শুক্রবার বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব পুরস্কার প্রদান করা হবে।