।। বিকে ডেস্ক ।।
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। ফলে আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তও নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মঙ্গলবার ১০ মার্চ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। মার্চ মাসে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি এবং জনগণের মধ্যে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে তা শিগগিরই কেটে যাবে। সরকার ইতোমধ্যে এপ্রিল ও মে মাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্পে যে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে, তা মূলত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির। এ ধরনের যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হচ্ছে অকটেন ও পেট্রোল। অথচ দেশে এই দুই ধরনের জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি আরও বলেন, এতদিনেও কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট হয়নি। হয়তো কিছু জায়গায় অপেক্ষা করতে হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়নি। এখনো জ্বালানির দামও বাড়েনি। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই উদ্বেগ কমে যাবে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, গতকাল প্রায় ৩০ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি পৌঁছেছে এবং আরেকটি আউটার অ্যাঙ্করেজে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সেটি থেকে জ্বালানি খালাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ১২ তারিখে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি পাইপলাইন চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। এর একটি বড় অংশ এরই মধ্যে এসেছে এবং বাকি অংশ ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সরবরাহ চুক্তি প্রতি বছর নবায়ন হয় এবং বর্তমানে এর মেয়াদও রয়েছে। ফলে এ নিয়ে কোনো সংকট নেই।
সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দৈনিক ৯০২২ টন ডিজেল, পেট্রোল ১০৭০ টন এবং অকটেন ৯১৩ টন সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে।