বীরশ্রেষ্ঠদের নামে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির নামকরণ

  • ১০:৩৯ এএম, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারিসমূহের নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা বীরশ্রেষ্ঠদের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

বুধবার ২২ এপ্রিল গ্যালারিগুলোতে এমন নামফলক দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পরামর্শ অনুযায়ি এই নামকরণ করা হয়েছে বলে বুধবার রাতে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

উল্লেখ্য, এর আগে গ্যালারিগুলোর নাম ছিল নদী ও ফুলের নামে।নতুন নামকরণের ফলে সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি এখন মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ উদ্যোগকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার বীরত্বগাথা স্থায়ীভাবে স্থান পেল।

নতুন নামকরণ অনুযায়ী গ্যালারি-৩ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, গ্যালারি-৪ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, গ্যালারি-৫ বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, গ্যালারি-৬ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং গ্যালারি-৭ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নামে করা হয়েছে।

এছাড়া ভিআইপি গ্যালারি-১ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এবং ভিআইপি গ্যালারি-২ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের নামে করা হয়েছে। গ্যালারি-১ ও গ্যালারি-২ সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত।

জাতীয় সংসদের গ্যালারিগুলোর এই নামকরণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি বীরত্ব ও ত্যাগের ইতিহাসকে আরও দৃশ্যমান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সংসদে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে এই নামফলক স্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম সরকারী সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করি। এ কারণেই সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নামে সাতটা গ্যালারি নামকরণ করেছি। যা আগে ছিল -পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বকুল ও শিমুল ইত্যাদি। এসব সব বাদ দিয়ে এখন সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এর নামে করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এম এ জি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। তার নামে প্রধান ফটকটা নামকরণ করা হয়েছে। এ ফটক দিয়ে সবাই যাওয়া আসা করে।

চিফ হুইপ বলেন, আমরা পূর্ণ ইমান নিয়ে আল্লাহকে বিশ্বাস করি। এ কারণে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা বসানো হয়েছে। যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল, সেখানে কালেমার ক্যালিগ্রাফি বসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি স্থাপন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহর উপর বড় কেউ নেই।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech