শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফ ফাইনালে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড ও আইন ভঙ্গের চেষ্টা রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও বাড়ছে মায়ের প্রতি অবহেলা : পদ থেকে সরানো হলো সেই যুগ্মসচিবকে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে- সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ দেশের ৪ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ২১ জনের মৃত্যু, অধিকাংশই বিদেশি

হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল

  • ১০:৪০ এএম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এক আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

তবে এ যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধের ওপর। গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অবশ্য এই চুক্তিটি কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণভাবে কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো— ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হওয়া এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর নতুন করে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো। ওসব হামলার ঘটনায় আগের চুক্তিটি চরম হুমকির মুখে পড়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব দেশই এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই দুটি সার্বভৌম সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে। লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করার জন্য কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির (নন-স্টেট অ্যাক্টর) যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

চুক্তিটির আরেকটি বড় শর্ত হলো, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে শুরু করে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও অপারেটিভদের প্রত্যাহার করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, লেবাননে কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা তৈরিতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব এলাকায় অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং পুরো অঞ্চলের একক ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (এলএএফ) হাতে।

গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির পর নতুন এই ঘোষণাটি এলো। ওই চুক্তি অনুযায়ী লেবানন জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েলও বৈরুতে বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখবে।

একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন দুই দেশ আবারও আলোচনায় বসবে। তবে নতুন এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরাপদ লেবানন বিনির্মাণের কর্মপরিকল্পনা তৈরি সম্ভব হবে।

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে এই আংশিক যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছিল।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে দুজন প্যারামেডিক (চিকিৎসাকর্মী) নিহত হন। এ ছাড়া রাজধানী বৈরুতের ঠিক দক্ষিণে একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি ড্রোন এবং দুটি রকেট তারা আকাশেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করেছে। আর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল।

বুধবার সন্ধ্যার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে ইসরায়েলি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হিজবুল্লাহ যদি উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহতে আবারও বিমান হামলা শুরু করবে দেশটির সামরিক বাহিনী। উল্লেখ্য, দাহিয়েহ অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া আংশিক যুদ্ধবিরতির শর্ত ছিল— হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার বিনিময়ে ইসরায়েলও বৈরুতে কোনো বড় ধরনের আগ্রাসন বা হামলা চালাবে না।

লেবানন সরকার দাবি করেছিল, হিজবুল্লাহ এই শর্তে সম্মতি জানিয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি বিবিসির কাছে দাবি করেন, আসলে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি, শুধু দাহিয়েহ অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার একটি সমঝোতা হয়েছে।

কামাতি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান আলোচনায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।

সূত্র : বিবিসি।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech