শিরোনাম :
ককরোচ আন্দোলনে সমর্থন ও যোগ দেওয়ার ঘোষণা মমতার তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ভুঁই: আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ অবশেষে দেশে ফিরলেন হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রার’ ১৭ নাবিক নাটোরে খাল খননের উদ্বৃত্ত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে ভাইরাল ভিডিওর পর দ্বিতীয় বিয়ের দাবি:এমপি নজরুলের সঙ্গে নারীর ভিডিওর খবরে ‘নজর রাখছে’ জামায়াত ইরানে টানা মার্কিন হামলা: ১১তম দিনেও একের পর এক বিস্ফোরণ জুয়া ও অর্থ লেনদেন তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বরখাস্ত স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষক ও ঋণখেলাপিদের অযোগ্য করার প্রস্তাব ১৭ অঞ্চলে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী

দেশের সাধারণ ও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপের আওতামুক্ত

  • ০১:৪৩ পিএম, শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
বিদ্যুতরে মূল্যবৃদ্ধি হলেও দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে এই মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার ৬ জুন সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় বিইআরসি একটি জুডিশিয়াল অথরিটি বা আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান, তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। দেশের ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির রুটিন সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রেখেছে সরকার। সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে এই মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই মূল্যবৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।

ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বলানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিত, পরিমাণ ও ধরন তুলে ধরেন।

এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। ব্রিফিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ সব আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে যদি আমাদের দেশের মাটির নিচে আবিষ্কৃত ও চিহ্নিত নিজস্ব জ্বালানিসম্পদ উত্তোলনের সঠিক নীতিমালা থাকত, তবে এখন আমাদের এতটা আমদানিনির্ভর হতে হতো না। পূর্ববর্তী নীতিমালার ভুলের কারণেই আজ বৈশ্বিক সংকটে আমরা এতটা আঘাতপ্রাপ্ত ও সংকুচিত হয়ে পড়েছি। এখন আমদানিকারক দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের বৈশ্বিক মানদণ্ড ও বাধ্যবাধকতা মেনে আমাদের মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত এক থেকে দেড় দশক ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি করা হয়েছে, তা আপনাদের সামনেই ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে এনে সুস্থ ধারায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বর্তমান সরকারের স্পিরিট বা সংকল্প অত্যন্ত পরিষ্কার।’

তিনি আরো জানান, সরকার একদিকে যেমন জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তেমনি বর্তমানের তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলোকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

কালো টাকার অপরাধের বোঝা বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে এখনো ৪১ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অথচ দেশের খেলাপি ঋণ, মানি লন্ডারিং বা ইনফরমাল ইকোনমির (অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি) বিশাল আকারের দিকে তাকালে এই ৪১ হাজার কোটি টাকা কিছুই না। যারা এই অপরাধগুলো করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক হয়েছেন, বিদেশে অর্থপাচার করেছেন, মূলত তাদের সেই অপরাধের বোঝাই আজকের এই সংকটময় ব্যবস্থাপনাকে বহন করতে হচ্ছে।

কোনো আনুষ্ঠানিক বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছাড়াই জনগণের স্বার্থে সরকার, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময়ের স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার জনগণকে জানাতে চায়, আবার জনগণও জানতে চায়। সুস্থ গণমাধ্যম সংযোগকারী হিসেবে উভয়কেই সেবা দেবে। আমরা তথ্যপ্রবাহের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করতে চাচ্ছি, যেখানে যেকোনো জরুরি বিষয়ে আমরা নিয়মিত আপনাদের সঙ্গে বসব এবং পরামর্শ নেব।

জনগণকে সচেতন রাখার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিটি কাজের জবাবদিহি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে প্রতিনিয়ত পৌঁছে দেওয়া হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech