শিরোনাম :
মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল বাসযোগ্য সুস্থ নগরীর জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: রংপুর সিটি প্রশাসক বিএনপি সরকারকে বেশি দিন সুযোগ দেওয়া হবে না- জামায়াত আমির আজই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ইরানের ভিন্নমত প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব : বিজিএমইএ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই : প্রধানমন্ত্রী ১০ জেলায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

আজই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ইরানের ভিন্নমত

  • ১১:০০ এএম, রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে শান্তি চুক্তি আজ রবিবার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি সইয়ের সময়সূচি নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেহরান।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বলেছে, যেখানে ইরানি আলোচকরা জানিয়েছেন এখনো সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়নি, সেখানে ট্রাম্প অস্বাভাবিকভাবে চুক্তি সইয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আজ ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন। তিনি হয়ত তার জন্মদিনে চুক্তি করে এটিকে একটি প্রচারণা হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শনিবার ১৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তিটি আগামীকাল সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের সাথে আমাদের সম্পর্ক এখন আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক গুণ ভালো। ওবামা প্রশাসন যেভাবে তাদের শত শত কোটি ডলার দিয়েছিল—যার মধ্যে নগদ ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চকচকে সবুজ নোটও ছিল—তার বিপরীতে আমাদের এখানে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হবে না।

“সবকিছু যখন শান্ত হয়ে আসবে, তখন সঠিক সময়ে আমরা সেখানে যাব। আমাদের চমৎকার বি-২ বোমারু বিমান আর তাদের দক্ষ পাইলটদের ধন্যবাদ, তাদের সাহায্যেই শক্তিশালী গ্রানাইট পর্বতের গভীরে পুঁতে রাখা পারমাণবিক ধূলিকণাগুলো আমরা বের করে আনব; তারপর ইরান বা আমেরিকায় এনে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেব।”

“আমরা ইরান এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সাথে অনেক দূর একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। আশা করি এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত, সহজে এবং মসৃণভাবে শেষ হবে। আর যদি তা না হয়, আমাদের হাতে চূড়ান্ত বিকল্প তো রইলই—আশা করি সেটা যেন আর কখনো ব্যবহার করতে না হয়!

মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। এ জন্য তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি সইয়ের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক ঠিক কবে সই হবে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকাল হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনা পরবর্তীতে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech