শিরোনাম :
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতায় ইরানে বিক্ষোভ দুবাইয় এয়ারপোর্টে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, গুলিবিদ্ধ ২ দুই জেলায় নতুন ইপিজেড, তিন জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে সরকার গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল বাসযোগ্য সুস্থ নগরীর জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: রংপুর সিটি প্রশাসক বিএনপি সরকারকে বেশি দিন সুযোগ দেওয়া হবে না- জামায়াত আমির

দুবাইয় এয়ারপোর্টে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

  • ০৭:৪৯ পিএম, রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে রিপোর্ট।।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় তাকে ইন্টারপোলের সহায়তা গ্রেফতার করা হয়।

রবিবার ১৪ জুন পুলিশ সদরদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ১২ জুন পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে তাকে আটক করা হয়।

তবে গ্রেফতারের পর তার প্রত্যর্পণ বা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হানা গেছে লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর। তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরায় ধরা পড়ে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই হয়ে যায় তার যাত্রার শেষ গন্তব্য।

বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিতে শনাক্ত হওয়ার পর ইন্টারপোলের তথ্যভান্ডার মিলিয়ে তাকে গ্রেফতার করে দুবাই পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা ইন্টারপোল সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

যদিও দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল বা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রবিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত করেন।

তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এটি পাঠানো হয়েছিল এবং আমরা বিষয়টি মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রতি রেড নোটিশ জারি করে। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের শুরুতে তার বিপুল সম্পদ নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সময়ে হাইকোর্টও অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

অনুসন্ধানে বেনজীর, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পায় দুদক। আদালতের আদেশে বিভিন্ন সময়ে শত শত বিঘা জমি, একাধিক ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়।
দুদকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে মিলে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। মামলায় বলা হয়, বেনজীর নিজে কয়েক কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। একই ধরনের অভিযোগ আনা হয় তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও।

পরবর্তী সময়ে মানি লন্ডারিং আইনে আরও একটি মামলা হয়, যেখানে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদনও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ছাড়ার পর বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ জোরদার করে সরকার। দুদকের আবেদনের পর আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইন্টারপোল আনুষ্ঠানিকভাবে তার নামে রেড নোটিশ জারি করে। বাংলাদেশের কোনো সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে এমন নোটিশ জারির ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech