।।বিকে ডেস্ক।।
অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু প্রতারক এবং বিএনপি জুলাই সনদকে কলঙ্কিত করেছে। গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে, যে পথে শেখ হাসিনা গেছে, সে পথেই তারেক জিয়াকেও যেতে হবে- বলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
শনিবার ২৭ জুন বিকালে ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, পলাতক ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা এবং পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের পথ যদি বিএনপি ও তারেক জিয়া অনুসরণ করে, তাহলে তাদের পরিণতিও পলাতক স্বৈরাচারের মতোই হবে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।
এতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপি’র কিছু গুপ্ত উপদেষ্টা ছিল, যারা ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সংঘাত-সহিংসতা বন্ধ করতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে আমরা এই ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু আপনাদের ভোট চুরির আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি না, ভোট চুরির ইতিহাসে আপনাদের নাম থাকবে।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে জনগণ আপনাদের ভোট দেয়নি, সংখ্যাগরিষ্ঠের গণভোটের রায় আপনাকে মানতেই হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালে তো অনেক কারণেই রোগী মারা যায়, আদদ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মারা গেল হাসপাতালটি বন্ধ করে দিলেন, আর হামে ৬০০ শিশু মারা গেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেননি।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করে সরকার চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। দেশ পরিচালনায় তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
তারেক রহমানের বিদেশ সফর নিয়ে তিনি বলেন, আশা করেছিলাম তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলবে, কিন্তু সে বিষয়ে ঘোষণা আসেনি। তিনি দুটি দেশ সফর করে জনগণের জন্য কি নিয়ে আসলেন তার সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য আমরা দেখলাম না। দুই দেশ সফর করে কোন কিছু নিয়ে না আসতে পারায় তাদের পররাষ্ট্রনীতিও ব্যর্থ হয়েছে।