।।বিকে স্পোর্টস।।
জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন জুড বেলিংহাম। কোয়ার্টার ফাইনালে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত সময়ে ২–১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
শনিবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের প্রচণ্ড গরমে বেলিংহামের ৯৩ মিনিটের গোলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়।
পুরো ম্যাচে নরওয়ের মূল ভরসা আর্লিং হালান্ড ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। শেষ পর্যন্ত পরিশ্রান্ত হালান্ডকে ১০৬ মিনিটে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিতে বাধ্য হন কোচ স্টেল সোলবাকেন।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের উচ্ছ্বসিত কোচ থমাস টাচেল বলেছেন, আজ আমরা নিজেরাই ম্যাচটিকে অনেক বেশী কঠিন করে ফেলেছিলাম। যাই হোক শেষ পর্যন্ত এই ফলাফলে আমি দারুণ খুশী। বিশ্বকাপের শেষ চারে খেলা অবশ্যই বিশেষ কিছু। যদিও পুরো দলের পারফরমেন্সে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। আজ আমরা ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছি।’
ইংল্যান্ড বড় একটি সুবিধা পায় ৫৫তম মিনিটে। তখন টরবিয়র্ন হেগেম নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন, কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পরফ ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ গোলের আগে হালান্ড ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। বলটি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে দূরের গোলবারে লেগে জালে জড়ায়। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান জুড বেলিংহাম।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং নরওয়ের তোরবিয়র্ন হেগেম গোল করলেও যথাক্রমে অফসাইড ও ফাউলের কারণে দুটি গোলই বাতিল হয়। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ১–১ সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রার প্রচণ্ড গরমে ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়া ইংল্যান্ড ৯৩তম মিনিটে এগিয়ে যায়।
বদলি খেলোয়াড় মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট নিল্যান্ড ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে জুড বেলিংহাম জালে বল পাঠান।
নরওয়ে সমতা ফেরানোর জোর চেষ্টা চালানোর সময় অতিরিক্ত সময়ে হালান্ডকে তুলে নেওয়া হয়।
৪৪তম মিনিটে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড। আলেকজান্ডার সোরলথ ও হালান্ড দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠলে সামনে ছিলেন শুধু জন স্টোনস। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সোরলথ ফর্মের তুঙ্গে থাকা হালান্ডকে ফাঁকা জায়গায় পাস না দিয়ে নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সম্ভাবনাময় সুযোগটি নষ্ট হয়ে যায়।
এর মূল্য চুকাতে হয় নরওয়েকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নিল্যান্ডের গোল কিক ওপরে থাকা ক্যামেরার তারে লাগার পর শুরু হওয়া আক্রমণে বেলিংহাম বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান।
বিরতির পর নোনি মাদুয়েকে ও ডিক্লান রাইসের জায়গায় টাচেল মাঠে নামান বুকায়ো সাকা ও এবেরেচি এজেকে। সপ্তাহের শুরু থেকে অসুস্থতায় ভুগছেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার রাইস। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলো ইংল্যান্ডকে মিডফিল্ডে দুর্বল করে দেয়।
ক্রিস্টোফার আয়ারের শট বারে না লাগলে নরওয়ে হয়তো ম্যাচের ভাগ্য পালটাতে পারতো।
ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের হয়ে দুই গোল করেছন হালান্ড। কিন্তু দলকে সবদিক থেকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন নিল্যান্ড। কিন্তু আজকের ম্যাচে সেভিয়ার এই গোলরক্ষক ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। বদলি খেলোয়াড় মরগান রজার্সের শট ধরতে গিয়ে তিনি হোঁচট খান। এই সুযোগে বেলিংহাম নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। আর এতেই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে স্বাগতিক হিসেবে শিরোপা জয়ের পর আর কখনও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড।