।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশে সফলভাবে খনন করা গ্যাসকূপগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। এবার উত্তরাঞ্চলেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। উত্তরাঞ্চলের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে পাবনার মোবারকপুর।
এ লক্ষ্যে মোবারকপুরে নতুন করে কূপ খননে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
এর আগে সেখানে কূপ খননের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এবার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সফলভাবে কূপ খননে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার পরিচালিত ভূকম্পন জরিপের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে মোবারকপুরে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সফল হলে এটিই হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অনুসন্ধানে সাফল্য এলে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে প্রায় ২০ বছর গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামের কূপটি পরিত্যক্ত না করে দ্বিতীয় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লেরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। এরই অংশ হিসেবে সুজানগরের মোবারকপুরে শুরু হয়েছে কূপ খননের কাজ।
এর আগে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে গ্যাস কূপ খননের কাজ শেষ হওয়ার পর পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে মোবারকপুরে দ্বিতীয় কূপ খননের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
২০১৭ সালের দিকে কূপ এলাকা থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন মালামাল হস্তান্তর করা হলেও ওই এলাকার জমির লিজ এবং খননস্থলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখনও বাপেক্সের অধীনে রয়েছে।
এদিকে, গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলায় ৬ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরতায় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার পরিচালিত ভূকম্পন জরিপের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে মোবারকপুরে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সফল হলে এটি উত্তরবঙ্গের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে।
বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ৬ একর জমিতে প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। তবে মূল খননকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি। ২০১৪ সালে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছিল বাপেক্স। তবে ভূগর্ভে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই স্থগিত করতে হয়।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, ২০১৪ সালে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় খননের লক্ষ্যে কাজ শুরু হলেও নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর তীব্র গ্যাসের চাপের কারণে তা বন্ধ রাখতে হয়। ওই চাপ মোকাবিলা করে আরও গভীরে যাওয়ার প্রযুক্তি তখন আমাদের কাছে না থাকায় প্রকল্পটি সফল হয়নি। ‘সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খননকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’, বলেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খননের মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার ৯০৯ কোটি টাকা ঋণ দেবে এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়ন করবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কূপ খনন ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ করবে।
বাপেক্সের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল নির্মাণের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার মানুষের স্বপ্ন স্থানীয় একটি গ্যাসক্ষেত্রের।