Breaking News:


ইফতারে এসে পদদলিত হয়ে রোহিঙ্গা সদস্যের মৃত্যুঃ প্রধান উপদেষ্টার শোক

  • ১০:৩৮ এএম, শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে রিপোর্ট।।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগে কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী শিবিরে আয়োজিত ইফতারে যোগ দিতে এসে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য নেয়ামত উল্লাহ মারা গেছেন। তিনি মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৪) সি ব্লকের রোহিঙ্গা।

শুক্রবার ১৪ মার্চ রাতে তাঁর মৃত্যুতে অধ্যাপক ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং লাখো রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ইফতারে যোগ দিতে এসে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের এক সদস্য গেছেন।

বার্তায় আরো বলা হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ জমায়েতে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেয়ামত উল্লাহের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৪ বর্ধিত) এলাকার হ্যালিপ্যাড এলাকায় ইফতার অনুষ্ঠান এলাকায় পদদলিত হয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সিরাজ আমীন বলেন, দুপুরের দিকে প্রচণ্ড গরম পড়ছিল। নেয়ামত উল্লাহ অনেক দূর হেঁটে এসে ইফতারে অংশ নিতে পাহাড়ের ঢালুতে উঠছিলেন। এ সময় তিনি পদদলিত হন। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় একটি এনজিওর পরিচালনাধীন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তা ছাড়া পদদলিত হয়ে আরও দুজন রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন ক্যাম্প-৪ আশ্রয়শিবিরের ই-৫ ব্লকের রোহিঙ্গা আসাদ উল্লাহর ছেলে আসমত উল্লাহ (১৬) ও একই ক্যাম্পের বশির আহমেদের ছেলে কলিম উল্লাহ (৬২)। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শরণার্থী শিবিরের কর্মকর্তারা জানান, অনুষ্ঠানে ৪৩ বছর বয়সী নেয়ামত উল্লাহসহ পাঁচজন আহত হন এবং তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর নেয়ামত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহেদুল হাসান বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আহত ব্যক্তিরা হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত চার রোহিঙ্গার মধ্যে দুজন এখন শঙ্কামুক্ত। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন, বাকিদের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক লাখ রোহিঙ্গা অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং ইফতার করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech