।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্র।
বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর দেশটির সামরিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে কৌশলগত দ্বীপ হানিশের দিকেও অগ্রসর হয়েছে তারা।
এই দখলের ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। হুথিদের এই অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়।
ইয়েমেনের চার সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হামলা চালাচ্ছে।
হুতিরা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ২৮ মার্চ ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে যুক্ত হয়। এরপর বেশিরভাগ সময় নীরব থাকলেও জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং সেপ্টেম্বরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বাড়ায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোহিত সাগরের নৌপথ ব্যবহার করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহপথ ব্যাপকভাবে ব্যাহত থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
ইরান-সমর্থিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ জোটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হুতিরা গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধ ‘নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে। মোচা দখলের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির প্রবেশপথে হুথিদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নিডহার্ট দে অর্টিজ হুথিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে, তাদের এর পরিণতির দায় নিতে হবে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হুথিদের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক অভিযান চালিয়ে ইয়েমেন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ইয়েমেন সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে হুথিদের উপকূলীয় অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল।
তবে হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম দাবি করেছেন, তাদের অভিযান আত্মরক্ষামূলক। ইয়েমেনে হামলা বন্ধ হলে এই অভিযানও বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।