।।বিকে ডেস্ক।।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়।
রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে প্রীতি গ্রুপের কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এদের মধ্যে একজনের নাম জয়নাব বেগম বলে জানা গেছে। তিনি কারখানার পাশে একটি কাপড়ের দোকান করতেন। এ ছাড়া বাকি ৬ জনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম।
এ ছাড়াও আগুনে কারখানার কর্মচারী ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডিইপিজেড, কালিয়াকৈর, জিরাবোসহ ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া জানান, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। তবে বাইপাইল সড়কে তীব্র যানজট থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার সামনে থাকা সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে একের পর এক বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সূত্র-কালের কন্ঠ।
স্থানীয়রা জানান, এ সময় একটি সিলিন্ডার ছিটকে কারখানার পাশের একটি কাপড়ের দোকানে আছড়ে পড়লে জয়নাব বেগম নামের এক পথচারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয় ফায়ার সার্ভিস। তবে তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জন হলেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫)। অপরজন গাড়িচালক দগ্ধ নুর ইসলাম (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে আশুলিয়া শিমুলতলায় থাকেন। ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসূন বিক্রি করেন তার বাবা নজরুল ইসলাম। দুর্ঘটনার পর তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে তার বাবাকে দেখতে পান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
আহত মোখলেস জানান, বাবা-ছেলে আশুলিয়ার জামগড়া প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভিতরে বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র, ইটপাটকেল,গ্লাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সে গুলোই মাথায় এসে পড়ে সুজনের। আর হাতে আঘাত পান তিনি (মুখলেস) নিজেও। সেখান থেকে আশপাশের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধ নুর ইসলামের ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তবে থাকতেন ভোলাতে। গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালান তিনি। বিস্ফোরণে তার সারা শরীর পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চার জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে নজরুল নামে একজন মারা গেছে। আহতদের মধ্যে ২ জন ক্যাজুয়ালিটি ও ১ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি দুইজনের মধ্যে নিহত সালমা নামের এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান, অন্যজন বুলবুল- তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।