।।বিকে রিপোর্ট।।
বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির মিছিল কাকরাইল মসজিদের সামনের মোড়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ। সেখানেই তাঁরা অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার ২০ মে বিকেল ৩টা দিকে মিছিল নিয়ে কাকরাইল মোড়ের দিকে আসেন আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সামনে থেকে শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে মিছিল নিয়ে যান।
এ সময় ১৮ মাস আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডার্ড গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিতে চান। এ জন্য স্লোগান দিতে দিতে তারা যমুনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় বেতনের দাবিতে তাদের নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। শ্রমিকেরা ‘যাব না রে, যাব না, বেতন ছাড়া যাব না’, ‘দুনিয়ার মজদুর, এক হও’, ‘বাঁচার মতো বাঁচতে দাও, নইলে গদি ছাইড়া দাও’ স্লোগান দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১১ মে থেকে টিএনজেড গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীরা শ্রম ভবনের সামনে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিটসহ যাবতীয় পাওনার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
টিএনজেড গ্রুপের বেতন বোনাসের দাবি আদায়ের শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ৯ দিন ধরে শ্রম ভবনের সামনে বেতন বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আমাদের কথা হয়েছে। তাঁরা আমাদের বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু বেতন বুঝিয়ে দিতে পারেননি। ফলে আজকে আমরা বাধ্য হয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের অভিমুখে এসেছি। বেতন নেওয়া ছাড়া আমরা এখান থেকে যাব না।
শ্রমিকেরা বলছেন, টিএনজেড গ্রুপের কাছে তাঁদের পাওনা ৫৪ কোটি টাকা। ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ৩ কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়। প্রত্যেক শ্রমিক ৯ হাজার ১০০ টাকা পান। বাকি টাকা গত মাসের ৮ তারিখে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা টাকা পাননি।
বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন আশুলিয়ায় অবস্থিত চেইন অ্যাপারেলস লিমিটেড, গাজীপুরে অবস্থিত টিএনজেড গ্রুপের আটটি প্রতিষ্ঠান ও ডার্ড গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা।