।।বিকে রিপোর্ট।।
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার রাত ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, এ ঘটনার অবশ্যই তদন্ত করব।
আবেগঘন কণ্ঠে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমার বলার কোনো ভাষা নেই। কীভাবে শুরু করব তা বুঝতে পারছি না। আমার মতো সারাদেশের লোক আজ হতবাক। এ রকম এক ঘটনা ঘটতে পারে আমরা কেউ কল্পনা করিনি, কারও ধারণার মধ্যে ছিল না। কিন্তু অবিশ্বাস্য জিনিস আমাদের হঠাৎ করে গ্রহণ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে কচি শিশুদের ওপরে পড়ল। আগুনে পুড়ে শিশুরা মারা গেল। মা-বাপদের আমরা কি জবাব দেব? কি বলবো তাদেরকে? আমরা নিজেদেরকে তো জবাব দিতে পারছি না। অজানা শিশুদের মুখ বারবার চোখে ভেসে উঠছে। সারা জাতি বাকরুদ্ধ ও শোকাহত বললে খুব কম বলা হবে।
এই দুর্ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এখনো লাশ আসছে হাসপাতালে। এখনো হাসপাতালে মারা যাচ্ছে। মা-বাপ এখনো খোঁজ নিচ্ছে আমার সন্তান কোথায়? তাকে আর কোনদিন চেনা যাবে কিনা? যাদের লাশ দেখছি তার মধ্যে আমার সন্তান আছে কিনা। পৃথক করার তো কোন উপায় নেই।
শিশুদেরকে স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত করব। তদন্ত হবে, কিন্তু এই নিস্পাপ শিশুগুলো আর ফিরে আসবে না।’
হতাহত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে পুরো দেশবাসী আছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শিশুদের বাবা মা আত্মীয়স্বজন সবার কাছে আমাদের সহানুভূতি জানাচ্ছি। বাংলাদেশের যত সন্তান আছে সবাই আপনাদের সন্তান। আপনারা নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করুন। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। জাতির সমস্ত লোক আপনাদের সঙ্গে আছে।
আগামীকাল জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা নিহত শিশুদের জন্য শোক দিবস ঘোষণা করেছি। আগামীকাল শোক দিবসে আমরা সবাই মিলে তাদের কথা স্মরণ করব। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করব। আজ থেকে সবাই তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করব। আল্লাহ আপনাদেরকে শান্তি দিন। নিহত শিশুদের জন্য দেশবাসী আমরা সবাই দোয়া করছি। আল্লাহ এই শিশুদেরকে জান্নাতবাসী করুক।
হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, হাসপাতালে সকলে ছুটে আসছে। আমরা সবার কাছে অনুরোধ করছি হাসপাতালে ভিড় করবেন না। কারণ যারা আহত তাদের জন্য এটা ভালো না। তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের শক্তি নেই। আমরা ভিড় করলে, আমাদের শরীর থেকে কি রোগ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এটা বলা মুশকিল। কাজেই দূরে থেকে দোয়া করেন সবাই।