।।বিকে রিপোর্ট।।
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি পুরোপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই- নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতি যেন সবাই শ্রদ্ধা দেখায়- বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের ব্যাপারে ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি বাসসকে বলেন, “আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে সৃষ্ট ক্ষত এখনো তরতাজা।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় উদ্বেগ জানায়।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ উদ্বেগের বিষয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ায় ভারত স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে শিগগির অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ওপর ভারত জোর দেয়।
জবাবে প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ করেছি কীভাবে আওয়ামী লীগ আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে, আমাদের রাজনৈতিক পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে এবং তাদের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও লুটপাটের শাসনামলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আপোষের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, আমরা স্মরণ করি কীভাবে আওয়ামী লীগ বারবার প্রহসনমূলক নির্বাচনের আশ্রয় নিয়েছে এবং আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সংস্কার প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।
এর আগে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ। সেদিনই পালিয়ে ভারতে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।