।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
প্রবল বালুঝড়ে বিপর্যস্ত ইরাকের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল। রাজধানী বাগদাদসহ ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল বালুঝড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৭৪৭ জন।
মঙ্গলবার ১৫ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরাকের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র এক বালিঝড়ের কারণে এক হাজারেরও বেশি মানুষ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
বালুঝড়ের কারণে ইরাকের পুরো দক্ষিণাঞ্চল আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে বালুর মেঘে, দৃশ্যমানতা কমে যায় এক কিলোমিটারেরও নিচে। পরিস্থিতির কারণে নাজাফ ও বসরার বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণাঞ্চলের মুথান্না প্রদেশের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, সেখানে অন্তত ৭০০ জন মানুষ শ্বাসকষ্টের শিকার হয়েছেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে— বিভিন্ন এলাকা ঘন কমলা রঙের ধুলোর চাদরে ঢেকে গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই বালিঝড়ের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং কিছু অঞ্চলে বিমান চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। ইরাকে বালুঝড় নতুন কোনও ঘটনা নয়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব ঝড়ের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা কর্মীরা ধুলোর হাত থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক পরে চলাফেরা করেন এবং যাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছিল, তাদের পাশে দাঁড়ান মেডিকেল কর্মীরা। মুথান্না প্রদেশে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের নাজাফে ২৫০ জনের বেশি এবং দিবানিয়া প্রদেশে অন্তত ৩২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। এছাড়া ধি কার ও বসরা প্রদেশেও ৫৩০ জন মানুষ শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইরাকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈফ আল বদর রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আইএনএ-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বাগদাদ এবং আরও কয়েকটি প্রদেশে বালুঝড় হয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিচিৎসা নিতে এসেছেন কমপক্ষে ৩ হাজার ৭৪৭ জন। অসুস্থদের সবাই শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন।
সাঈফ আল বদর জানান, রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল বাগদাদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আল মুথান্নায়। বাগদাদে ১ হাজার ১৪ জন এবং আল মুথান্নায় ৮৭৪ জন মঙ্গলবারের বালুঝড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। বাকি রোগীরা অন্যান্য অঞ্চলের।
হাসপাতালে আসা এই রোগীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এসেছিলেন। তাদেরকে উচ্চতর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হবে। আমাদের ওষুধ, মেডিকেল সাপ্লাই কিংবা অক্সিজেন— কোনোটিরই অভাব নেই, আইএনএ-কে বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
মঙ্গলবারের ঝড়ে ইরাকের কোথাও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সাঈফ।
ইরাকে বালুঝড় বিরল কোনো দুর্যোগ নয়; তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে বালুঝড়ের হার বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের জেলে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরানের স্থান পঞ্চম।
এদিকে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি, এএফপি