।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
জার্মানিতে ফেডারেল নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে, আর কট্টর ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (আএফডি) দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।
রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি (স্থানীয় সময়) প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, সিডিইউ পেয়েছে ২৮.৮% ভোট, যা দলটিকে স্পষ্ট বিজয় এনে দিয়েছে। দলের নেতা ফ্রিডরিখ মের্ৎস নতুন চ্যান্সেলর হতে চলেছেন, যদিও তিনি আগে কখনো সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না।
অন্যদিকে, আএফডি ২০.২% ভোট পেয়ে তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জন করেছে, তবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে সরকার গঠনে আগ্রহী নয়। মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ১৬.২% ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা।
এই নির্বাচনে প্রধান ইস্যু ছিল অভিবাসন, অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিপুল পরিমাণ ভোট কমেছে চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের দল সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের (এসপিডি)। প্রায় নয় শতাংশ ভোট কমে তারা পেয়েছে ১৬ দশমিক চার শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে আছে অতি দক্ষিণপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। তারা পেয়েছে ২০ দশমিক আট শতাংশ ভোট।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে কোনো দলের পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।
সিডিইউ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এএফডি-র সঙ্গে সরকার গড়বে না। ফলে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েও সরকারে থাকতে পারবে না অতি দক্ষিণপন্থিরা।
অন্যদিকে, দুইটি জোট তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এক সিডিইউ এসপিডি-কে সঙ্গে নিয়ে নতুন সরকার তৈরি করবে। অথবা তারা গ্রিন পার্টি বা সবুজ দলকেও জোটসঙ্গী করতে পারে। তবে সিডিইউ নেতা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, জোট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে।
অন্যদিকে এএফডি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি দল যে ‘ফায়ার ওয়াল’ তৈরি করেছিল, ভোটাররা তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পার্লামেন্টে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তারা তাদের ভূমিকা পালন করবে।
বার্লিনের কেন্দ্রস্থলে বিজয় উদযাপন করেছেন মের্ৎস এবং তার সমর্থকরা। তিনি বলেছেন, “চলো, উদযাপন শুরু করি,” যা তার দ্রুত জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়। তবে, তার কড়া অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে কিছু মানুষ দলের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে, আএফডি-র সমর্থকরা দলের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন করেছে, যেখানে দলটির সহ-নেতা অ্যালিস ভাইডেল বলেন, আএফডি কখনো এত শক্তিশালী ছিল না।
উল্লেখ্য, নিজেদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও সংরক্ষণশীল এবং ডেমোক্র্যাট সমস্ত দলই এবারের নির্বাচনের আগে জানিয়েছিল, তারা কোনোভাবেই অতি দক্ষিণপন্থি এএফডিকে সমর্থন করবে না। যা ফায়ার ওয়াল রাজনীতি হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।
পরিস্থিতি যা তাতে নতুন চ্যান্সেলর হতে পারেন সিডিইউ নেতা ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। তিনি এরইমধ্যেই জানিয়েছেন, ইউরোপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে দেশে দুটি প্রাণঘাতী হামলা হয়, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং ডানপন্থী দলগুলোর প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আএফডি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিবাসীদের ব্যাপক বহিষ্কারের দাবি তুলেছে। সিডিইউ এবং এসপিডিও অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে, আএফডি সরকার গঠন না করলেও, তারা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফল জার্মানির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ম্যার্ৎসকে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। শক্তিশালী ও সার্বভৌম ইউরোপীয় ব্লক গড়ে তোলার কথা বলেছেন ম্যার্ৎস। মাক্রোঁ তার বার্তায় সেই বিষয়টির উল্লেখ করেছেন।