।।বিকে রিপোর্ট।।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটি জরুরী অবতরণ করে। এতে বিমানে থাকা শিশু সহ ২৯১ জন আরোহী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।
মঙ্গলবার ২০ মে সকাল ৭টায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ।
তিনি বলেন, বিমানটি উড্ডয়নের সময় পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় আগুনের ফুলকির মত অবস্থার সৃষ্টি হলে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে জরুরী অবতরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিমানটিতে থাকা ২৯০ জন যাত্রীর সবাইকে নিরাপদে বের করা হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদ রয়েছেন। বিমানটির বর্তমান অবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, তার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে৭১৩ ফ্লাইটটি (এয়ারবাস এ৩৩০-৩০৩) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ৭টার দিকে ২৯০ জন যাত্রী নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
উড্ডয়নের ১৫ মিনিটের মাথায় পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে পাইলট এর একটি ইঞ্জিনে (দুটি ইঞ্জিন থাকে) স্পার্ক দেখতে পান এবং দ্রুত তিনি বিমানটি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। এ অবস্থায় প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর দিয়ে তেল পুড়িয়ে সোয়া ৮টায় জরুরি অবতরণ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে এক বক্তব্যে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকে৭১৩ ফ্লাইটের ইঞ্জিন-২-এ অপ্রত্যাশিত পাখির ধাক্কার ঘটনায় ঢাকা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
প্লেনটিতে ১৯ জন ছিলেন বিজনেস শ্রেণির যাত্রী, ২৫৬ জন ছিলেন ইকোনমিক শ্রেণির যাত্রী, শিশু ছিল পাঁচজন। আর ১১ জন ছিলেন ক্রু। ফ্লাইটের সব যাত্রী, ক্রু নিরাপদে আছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, যেহেতু প্লেনটির মেরামতের প্রয়োজন, তাই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। যাত্রীদের আরাম ও বিশ্রামের জন্য এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের নিকটবর্তী হোটেলগুলোতে থাকার ব্যবস্থা করেছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ মে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের চাকা (বাম পাশের ল্যান্ডিং গিয়ার) খুলে নিচে পড়ে যায়। তবে ফ্লাইটটি পাইলটের দক্ষতায় নিরাপদে অবতরণে সক্ষম হয়। ফ্লাইটে শিশুসহ মোট ৭১ জন যাত্রী ছিল।