।।বিকে রিপোর্ট।।
বহুমুখীকরণ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘মিট বাংলাদেশ এক্সপোজিশন’।
বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই এক্সপোজিশনে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত—লেদার, ফুটওয়্যার, এমপিপিই, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি। আপনারা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, আমাদের জানান। আমরা সহায়তা করব, একসাথে কাজ করব। আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।
তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) সম্প্রতি একটি সফল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করেছে। সেখানে আমরা আমাদের সক্ষমতা এবং সুযোগগুলো সম্পর্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবহিত করেছি।
তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি, আমাদের রপ্তানি অনেকটা একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। আমাদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দূর করে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করলেও আমাদের রপ্তানিতে স্থবিরতা আসবে না। ট্রান্সশিপমেন্ট সমস্যার সংকট আমরা অত্যন্ত মসৃণভাবে মোকাবেলা করেছি। দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিমানে রপ্তানিসহ অন্যান্য পরিবহন ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা চলছে। অনেকে ভেবেছিলেন এতে আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। বরং রপ্তানি খরচ আরও কমবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে রপ্তানিকারকেরা আগের চেয়ে সহজে ও কম খরচে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছাতে পারবেন।
আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে ১২০টির বেশি দেশীয় কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। সিঙ্গাপুর, লিবিয়া, কলম্বিয়া, আলজেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়াসহ ২৫টির বেশি দেশের আন্তর্জাতিক সোর্সিং এজেন্ট ও ক্রেতা এবং ১ হাজারের বেশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে। তারা প্রদর্শনী শেষে বাংলাদেশি উৎপাদনকারী বিভিন্ন শিল্পকারখানা পরিদর্শন করবে। এতে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জন্য বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) সংযোগ এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশি উৎপাদনকারীরা এই মেলায় সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, সোর্সিং এজেন্ট, বিনিয়োগকারী ও খাত সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া প্রদর্শনীতে খাতভিত্তিক ব্রেকআউট সেশন, কর্মশালা ও শিল্প বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসা নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, ইসিফোরজে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরে রপ্তানি বৈচিত্র্য সাধনে সরকারের নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি সহায়তা করা। একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে দেশের রপ্তানি আয় ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সুহাইল কাসিম বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তা কমে যাবে। তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নেই টিকে থাকবে বাংলাদেশ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবেলায়ও সহায়ক হবে।