।।বিকে রিপোর্ট।।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে লং মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল আগেই।
শনিবার ১৭ মে সেই ঘোষণা অনুযায়ী ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে নগরভবনের সামনে স্লোগান, মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন ইশরাকপন্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গুলিস্থানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগরভবনের সামনে জড়ো হচ্ছেন তারা। সেখানে তারা ‘শপথ নিয়ে টালবাহানা- চলবে না চলবে না’, ‘অবিলম্বে ইশরাক হোসেনের – শপথ চাই, দিতে হবে’, ‘জনতার মেয়র ইশরাক ভাই, অন্য কোনো মেয়র নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।
এর আগে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বসবাসকারী ভোটারদের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকরা লং মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হন।
গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা হয়।
ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭শে মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭শে এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এখন পর্যন্ত ইশরাকের শপথগ্রহণের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তাই ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তার সমর্থকরা। বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। গত ১৪ মে সকাল ৯টার দিকে ডিএসসিসি’র প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। প্রায় ৫ ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে দুপুরে এক বৈঠকে নেতা-কর্মীরা আজ নতুন কর্মসুচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেন। সকাল ৯টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
‘ঢাকার সাধারণ ভোটারদের আয়োজনে নগর ভবন অবরোধ, আয়োজনে: নগরবাসী’ ব্যানার নিয়ে গতকাল সকালে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা নগর ভবনের মূল ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন। একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে নগর ভবনের মূল ফটক খুলে দিলে তারা ভেতরে ঢুকে যান। তাদের একটি অংশ নগর ভবনের সিঁড়িতে অবস্থান নেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন।
আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরও অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন ব্যক্তির কারণে জনতার মেয়র ইশরাককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না। শপথের মাধ্যমে ইশরাককে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।