।।বিকে রিপোর্ট।।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় বলেছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তবে এ সময়ে সম্ভব না হলে নির্বাচনের জন্য এপ্রিল মাস পার হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার ৩ মে সকালে ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী আমির সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী বছরে ১৭ অথবা ১৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। রমজানের পর ঝড়, বৃষ্টি, বন্যার আশঙ্কা থাকে। তাই মধ্য ফেব্রুয়ারির আগে ভোট চান। উল্লেখ্য, গত মাসে মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির বলেছিলেন, রোজার আগেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
যদিও পরের দিন তিনি অবস্থান বদলে বলেন, বিচার, সংস্কারসহ তিন শর্ত পূরণ হলে নির্বাচন।
আজ শনিবার জামায়াত আমির বলেন, দুটি সময়কে উপযুক্ত মনে করি। একটি ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে। তবে যদি এ সময়ের মধ্যে সংস্কারগুলো এবং বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া জনমনে আস্থা সৃষ্টির পর্যায়ে না আসে তাহলে সর্বোচ্চ এপ্রিল পার হওয়া উচিত না। আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং পারিপার্শ্বিকতার বিষয় আছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ এবং মার্চ মাসের তিন ভাগের দুই ভাগ রোজা থাকবে। সে সময়ে নির্বাচন সম্ভব নয়।
শফিকুর রহমান বলেন, সংস্কার কার্যক্রম যদি আক্ষরিকভাবেই গতিশীল করা হয় এবং অংশীজনরা সহযোগিতা করেন তাহলে সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচন সম্ভব।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হওয়ার কথা বলেন জামায়াতের আমির। এই অর্থ কীভাবে পাচার করা হলো, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার বলে জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদের নাকি ফ্যাসিবাদীদের পতন হয়েছে চিন্তা করতে হচ্ছে। তিনি সরকার প্রসঙ্গে বলেন, এই সরকার জন-আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। তাদের সহযোগিতা করছি। তবে সরকারের কিছু উপদেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করছেন। যা থেকে তাদের দূরে থাকার আহ্বান জানাই।
উল্লেখ্র, ২০১১ সালের এপ্রিলের পর, জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলন হলো।
শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে কার্যত সরকার ছিল না। দলের আহ্বান মেনে নেতাকর্মীরা শান্ত ছিলেন। অন্যান্য দলেরও একই ভূমিকা ছিল। তাই প্রতিশোধমূলক খুব বেশি ঘটনা ঘটেনি। তকে যা ঘটেছে তাও আমরা সমর্থন করি না। সেদিনই বলেছিলাম, আমরা আইন হাতে তুলে নেবো না। প্রতিকার চাইতে হবে আইনি প্রক্রিয়ায়।
জামায়াত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করতে চায় জানিয়ে দলটির আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের সময় যারা হত্যা, গণহত্যা গুম, খুন, ধর্ষণ করেছে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের যাতে আইনের আওতায় আনার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করে যাব। তাদের প্রাপ্য শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে।