শিরোনাম :
পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পরিকল্পনা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের ভারতে বসে দেশে ফেরার ছক কষছেন আ’ লীগ নেতারা ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা ভোট বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ১১ দলীয় জোটের: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি জাবেরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক : তাসনিম জারা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং: ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্ডার পেল বাংলাদেশ

মধ্যরাতে হঠাৎ মেট্রোরেলে কর্মবিরতি ঘোষনা! বিপাকে যাত্রীরা : পরে আংশিক কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মীরা -ফ্রি চলছে মেট্রো

ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
প্রথমে পূর্ন কর্মবিরতি ও পরে আংশিক কর্মবিরতির পালন করছেন মেট্রো রেলকর্মীরা।

এমআরটি পুলিশ সদস্য কর্তৃক ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) চারজন সহকর্মী মৌখিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তারা এই কর্মসূচী শুরু করে।

এদিকে এমন অকস্মাৎ  কর্মবিরতির ঘোষনায় নিয়মিত বহুযাত্রী বিপাকে পড়ে যান। অনেকে নিয়মিত সময়ে উপস্থিতির জন্যে অধিক ব্যায়ে পাঠাও করে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পড়ে জানা যায় কর্মবিরতি আশিংক হওয়া মেট্রো চলছে। কিন্তু পিজি গেট, টিকেট বুথ বন্ধ থাকায়  অনেক যাত্রীই বিনা ভাড়ায় মেট্রোরেল ভ্রমণের সুযোগ নিচ্ছেন।

সোমবার ১৭ এপ্রিল সকাল থেকে মেট্রোরেলের সব স্টেশনে প্যাসেঞ্জার গেটে (পিজি গেট) এমআরটি বা র‍্যাপিড পাস ব্যবহার করতে পারছেন না যাত্রীরা। গেটগুলোতে মেট্রোরেলের কোনও কর্মী নেই। কয়েকজন জায়গায় শুধু আনসার সদস্যদের দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল রবিবার মধ্য রাতে ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড এর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের’ ব্যানারে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনা তুলে ধরে ৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় মেট্রোরেল কর্মীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, গতকাল আনুমানিক বিকেল সোয়া ৫টায় দুজন মহিলা কোনো প্রকার পরিচয়পত্র প্রদর্শন না করেই সিভিল ড্রেসে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করে এসে ইএফও অফিসের পাশে থাকা সুইং গেইট ব্যবহার করে পেইড জোন থেকে বের হতে চান। যেহেতু তারা নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন না ও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআরএ নিয়ম অনুযায়ী তাদের সেখান থেকে পিজি গেইট ব্যতীত সুইং গেইট দিয়ে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। তবে, সংশ্লিষ্ট পুলিশের কর্মকর্তারা এতে উত্তেজিত হয়ে তর্কে লিপ্ত হন এবং একপর্যায়ে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে চলে যান।

পরবর্তীতে ঠিক একইভাবে দুজন এপিবিএন সদস্য সুইং গেইট ব্যবহার করে সুইং গেইট না লাগিয়ে চলে যান, উক্ত বিষয়ের কারণ তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা পূর্বের ঘটনার জের ধরে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে আরও কয়েকজন পুলিশ এসে দায়িত্বে থাকা সিআরএ এর সঙ্গে ইএফওতে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ইএফও থেকে বের হওয়ার সময় কর্মরত সিআরএ এর কাঁধে বন্ধুক দিয়ে আঘাত করে এবং কর্মরত আরেকজন টিএমও এর শার্টের কলার ধরে জোরপূর্বক এমআরটি পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং গুলি করার জন্য বন্দুক তাক করে। উপস্থিত স্টেশন স্টাফ ও যাত্রীগণ বিষয়টি অনুধাবন করে উক্ত এমআরটি পুলিশের হাত থেকে কর্মরত টিএমওকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসে।

ওই পরিস্থিতি মেট্রোরেল কর্মপরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। বর্তমানে আহত (রাইফেল দিয়ে কাঁধে আঘাত করা হয়) সিআরএকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং টিএমও (যাকে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে হেনস্তা করা হয়, গুলি করার জন্য বুকে রাইফেল ধরা হয়) ওই ঘটনার বিবৃতি দেওয়ার পর বাসায় যাওয়ার পথে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কর্মীদের ৬ দফা দাবিতে রয়েছে-

১. ঘটনার মূল হোতা পুলিশ সদস্য এসআই মাসুদকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের (কনস্টেবল রেজনুল, ইন্সপেক্টর রঞ্জিত) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
২. মেট্রোরেল, কর্মী ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গঠন করতে হবে।
৩. এমআরটি পুলিশ বাতিল করতে হবে।
৪. স্টেশনে কর্মরত সব কর্মীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. অফিসিয়াল পরিচয়পত্র ও অনুমতি ছাড়া কেউ যেন স্টেশনের পেইড জোনে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. আহত কর্মীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

কাজীপাড়া স্টেশনে থাকা বাঙ্গালীর খবরের নিউজ এডিটর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানান, সকাল থেকে মেট্রোরেলের কোনও স্টাফদের এখানে দেখা যায়নি। কনকোর্স প্লাজায় প্রতিটি রুম ফাঁকা। নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ২/১ জন স্টাফ আছেন। কিন্তু তারা কোনও কাজ করছেন না।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীরা ফ্রিতে যাতায়াত করছেন স্টেশন দিয়ে। প্রেস ক্লাব স্টেশনে নামার পর দেখা গেছে অনেক যাত্রী পিজিতে কার্ড পাঞ্চ করলে নিচ্ছে না। তখন আনসারগণ পাসের খোলা গেট দিয়ে চলে যেতে বলছেন যাত্রীদের।

আব্দুল্লাহিল মারুফ নামের এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশনে নামলাম। এক্সিট পয়েন্টে মেশিন অফ। কার্ড পাঞ্চ করা যাচ্ছে না৷ স্টেশন রুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পেলাম না৷

এক্সিট গেটে কাস্টমার রিলেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিআরএ) বললেন, চলে যান। কোনো সমস্যা নেই। আমি দেখলাম শুধু একক যাত্রার টিকিটও তারা হাতে হাতে সংগ্রহ করছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, যথারীতি ট্রেন চলছে তবে ভাড়া লাগছে না। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আকিবুল হাসান নিজাম নামে এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আমি কারওয়ান বাজার হতে পাঞ্চ ছাড়ায় মেট্রোতে উঠলাম এবং আগারগাঁও বের হওয়ার সময় পাঞ্চ করে বের হলাম। টাকা কাটে নি। পরবর্তীতে কী সমস্যা হবে বা জরিমানা গুনতে হবে? কারওয়ান বাজার স্টেশন হতে বলেছিল ফ্রি এন্ট্রি। আগারগাঁওতে টিকিট টাকা ইন করার লোক আছে দেখলাম।

তানজিমা রহমান নামে আরেক যাত্রী লিখেছেন, পল্লবী স্টেশন থেকে পাঞ্চ করে উঠতে হয়েছে, কিন্তু কারওয়ান বাজার স্টেশনে পাঞ্চ ছাড়াই বের করে দিচ্ছে। মেশিনও বন্ধ রাখা হয়েছে। বলছে আজকের জন্য ফ্রি। তাহলে যদি পরে জরিমানা করা হয়, এর দায়িত্ব কার? ৪৫ টাকার জায়গায় কেন আমি ২০০ টাকা জরিমানা দেব?

ডিএমটিসিএল-এর পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম বলেন, গতকাল ঘটনার পরেই ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রউফ (বর্তমানে সেতু সচিব) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে কথা বলেছেন৷ তারা পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন৷ আশা করি, আজকের মধ্যে পুরো বিষয়টি সুরাহা করা যাবে৷

পিজি গেটে কার্ড পাঞ্চ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কালকের (রবিবার) ঘটনায় মেট্রোরেলের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত৷ তারা কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেটি তো সবাই জানেন৷ এখন তারা কাজ করছেন না বলে কোনো কার্ডই পাঞ্চ করতে পারছেন না যাত্রীরা৷ আমরা এ বিষয়টি খুব দ্রুত সমাধান করতে চাই৷ তা না হলে আজ বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাব৷

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech