।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে হামাস ও মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভিন্ন বার্তা আসার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার ২৬ মে ভোর থেকে গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে গাজা শহরেই ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আল-জাজিরার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা গাজা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া একটি নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যেখানে ১০ জন জিম্মিকে দুই দফায় মুক্তি ও ৭০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে ইসরায়েল।
গাজা সিটি থেকে এএফপি জানায়, নতুন এই সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া এমন সময়ে প্রকাশ পেল, যখন ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের আক্রমণ আরও জোরদার করেছে। এর আগে একাধিক দফা আলোচনা হলেও মার্চের মাঝামাঝিতে দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
হামাসের সূত্র এএফপিকে জানায়, হামাস মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের দেওয়া নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা গোষ্ঠীটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পেয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১০ জন জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ৭০ দিনের যুদ্ধবিরতি দেওয়া হবে, এবং এই সময়ের মধ্যেই একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারান্টিসহ আলোচনা শুরু হবে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির ওই প্রস্তাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এর আগে তিনি সিএনএনকে জানান, গাজায় যুদ্ধবিরতি-জিম্মি চুক্তি যা যুদ্ধবন্ধের একটি উপায় তা এখন টেবিলে আছে। হামাসকে তা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তবে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কতদিনের তা তিনি জানাননি।
দ্বিতীয় সূত্রটি জানায়, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম সপ্তাহে পাঁচজন জীবিত ইসরাইলি জিম্মি মুক্তি পাবে এবং বাকি পাঁচজন ৭০ দিনের যুদ্ধবিরতির শেষের দিকে মুক্তি পাবে।
তবে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল ওই তথ্য দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল যে প্রস্তাব পেয়েছে তা গ্রহণ করা যেকোনো সরকারের পক্ষে নেওয়া অসম্ভব।
গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে আবারও গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর হামলা থামেনি। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, হামাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। শুধু হামলা নয়, ত্রাণবাহী যানবাহন আটকে রেখেছে সেনারা। এতে অনাহার ছড়িয়ে পড়ছে পুরো উপত্যকায়। গত দুইদিনে না খেয়ে মারা গেছে ২৯ জন। মৃত্যুঝুঁকিতে আছে ৭০ হাজার শিশু। জাতিসংঘ বলছে, সেখানে খাদ্য সংকটে মারাত্মক অপুষ্টি ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেছেন, গাজার সবাই কষ্ট পাচ্ছেন, কারণ হাসপাতালগুলোতে গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ফুরিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া ও হামলা তীব্র করায় অসংখ্য মানুষ আহত হচ্ছেন। তাদের চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘ সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানায়, এতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও ওষুধের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।