শিরোনাম :
ঢামেকের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী: বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন টানা ভারী বর্ষণে বন্যা-পাহাড়ধস: ২৬ জন নিহত, পানিবন্দী লাখো মানুষের জীবন বান্দরবানে সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১২ জন, নিখোঁজ ২৩ সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে : বিক্রেতারা বলছেন বৃষ্টির প্রভাব, ক্রেতারা বলছেন অজুহাত বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে-ভূমিধ্বস ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

  • ১০:২৫ এএম, বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর বাজেট চূড়ান্ত করা হয়।

মঙ্গলবার ৩০ জুলাই জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়।

যা বুধবার ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করে জাতীয় সংসদ। সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা টানা তিন সপ্তাহ বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেন।

গত সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্দিষ্টকরণ আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে মঞ্জুরি দাবি পাস করা হয়। ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সদস্যরা ১৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে সময় বাঁচানোর জন্য বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নিলে মঞ্জুরিগুলো দ্রুত পাস করা হয়।

নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে পাস হলো নতুন বছরের বাজেট

নিদিষ্টকরণ বিলে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার অনধিক পরিমাণ অর্থ সংযুক্ত তহবিল হতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়, গৃহীত হয় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, বাকি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যান্য মঞ্জুরি দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। এর আগে গত সোমবার বেশকিছু সংশোধনী এনে অর্থ বিল ২০২৬ পাস করা হয়।

গত বছরের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেড়েছে বাজেট

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বাজেটে যোগ হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি, ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে বিদেশি উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে; যা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech