।।বিকে স্পোর্টস।।
টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারদিন বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত কাটল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।
রবিবার ১৬ আগস্ট ডারউইনে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে ৯ উইকেটের বিশাল জয় পায় টাইগাররা।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাদা পোশাকে অস্ট্রেলিয়া সফর করেই হাসান মাহমুদ, তানজিদ হাসান তামিম ও মেহেদী হাসান মিরাজদের অসাধারণ নৈপুণ্যে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। লাল-সবুজের দল এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে একটি টেস্টে নিজেদের দেশে হারিয়েছিল।
৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ার তানজিদ হাসান তামিম শূন্য করে জশ হ্যাজলউডের শিকার হন। তবে বাকি কাজটা ঠিক সেরে নেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান ৪২ বলে ২৫ ও মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে মিরাজের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশে। অজি ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে স্বাগতিকদের লিড পাইয়ে দেন। তবে হাসান মাহমুদের বলে শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন তিনি। ২০১ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে গ্রিন মাত্র চারটি চার মেরেছেন, পরে একটি ছক্কাও যোগ করেন। প্রচণ্ড চাপ সামলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ টেস্ট রান করেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার মিরাজ। ব্যাট হাতে অর্ধশতকের পর বল হাতে তিনি তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এই তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৫তম ৫ উইকেট দখল।
চতুর্থ দিনের সকালে ক্ষয়িষ্ণু উইকেটে তুলনামূলক নরম বলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটের কানায় দুইবার বল লাগালেও স্লিপে ফাঁকা জায়গা থাকায় দুবারই বল সীমানার দিকে চলে যায়। মেহেদী একের পর এক ডট বল করে ক্যারিকে চাপে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
এরপর মেহেদীর দুর্দান্ত এক বলে বোল্ড হন বিউ ওয়েবস্টার। বলটি সোজা লাইনে থেকে ব্যাটারের ব্যাটের পাশ কাটিয়ে অফ স্টাম্পে আঘাত করে। প্রথম ইনিংসেও একই ধরনের বলে তাসকিন আহমেদের বিপক্ষে বোল্ড হয়েছিলেন ওয়েবস্টার।
সকালের তৃতীয় শিকার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ফেরান মেহেদী। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় কাছাকাছি ফিল্ডিং করা সাদমান ইসলামের হাতে। সহজ ক্যাচ নিয়ে কামিন্সকে ফেরান সাদমান।
বাংলাদেশের চেয়ে তখন অস্ট্রেলিয়া ২১ রান পিছিয়ে ছিল। তবে দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার এক বল আগে গ্রিন অস্ট্রেলিয়াকে সেই রান পার করে দেন। গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়া মিচেল স্টার্ককে ১৮ রানে ফেরান তাসকিন আহমেদ। আর ১৫ রান করা নাথান লায়নকে শেষ ব্যাটার হিসেবে এলবি করেন মিরাজ।
চতুর্থ দিনের এই দারুণ শুরু অবশ্য আগের দিনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শনিবার হাসান মাহমুদ অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটারকে ফিরিয়েছিলেন। তাইজুল ইসলাম ফেরান মার্নাস লাবুশেনকে। আর স্টিভেন স্মিথকে নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে পাঠান মেহেদী হাসান মিরাজ।
এর আগে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া টস জিতে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে।
দুই ইনিংসে ৯ উইকেট দখল করা হাসান মাহমুদ ম্যাচ সেরা হন।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন।
ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং এই টেস্ট সিরিজটি তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।
২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া- ১৯৮ ও ২৮৪
বাংলাদেশ- ৪২৬ ও ৫৭/১