।।বিকে ডেস্ক রিপোর্ট।।
সরকার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নে বদ্ধপরিকর, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি ও সমতল এলাকার ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে-বলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আরাকানের ওই বর্ডারটা ডিফিকাল্ট বর্ডার। আমরা তো মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। এখন মিয়ানমার থেকে কিছু আমদানি-রপ্তানি করতে হলে মিয়ানমার সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয় আবার আরাকান আর্মিতে যারা আছে তারাও পয়সা নিচ্ছে। এখানে একটা সমস্যা আছে এ বাস্তবতা আপনাকে বুঝতে হবে। এটার সমাধানে চেষ্টা চলছে। আর সীমান্ত পুরোপুরি নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছে।
পাহাড় অশান্ত কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর চৌধুরী নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমি পাহাড়ে তিনবার চাকরি করেছি। ক্যাম্প কমান্ডার ছিলাম, সিও ছিলাম ও ব্রিগেড কমান্ডার ছিলাম। পাহাড়ের অশান্তি তো আপনারা দেখেনইনি। এখন পাহাড় ওই তুলনায় দেখতে গেলে, পুরোটা শান্ত।
অতীতের স্থলমাইন হামলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক উন্নত এবং সাজেকের মতো এলাকায় পর্যটকদের বিচরণ সম্ভব হচ্ছে। অপহরণের মতো ঘটনা শুধু পাহাড়ে নয়, সমতলেও ঘটে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ফটিকছড়ি, রাউজান, পটিয়া, সাতকানিয়া এই এলাকাগুলো হচ্ছে পাহাড় ও সমতল; দুইটারই সংমিশ্রণ। চট্টগ্রাম বিভাগে সব পড়েছে পাহাড়, সমতল, বনাঞ্চল, এখানে সমস্যা অন্যান্য এলাকা থেকে একটু ব্যতিক্রম।
আরাকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশে সাংগ্রাই উৎসব পালন করেছে এমন ভিডিওর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের দেখতে হবে, আরাকান আর্মি ফাইট করছে অনেকদিন যাবত। যেভাবে ভিডিও এসেছে, আপনারা জানেন টিকটক ভিডিও অনেকভাবে করা যায়। সব যে সত্যি, এটা তো না।
যৌথবাহিনীর অভিযান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযান কোনো অবস্থায় কমেনি। বরং আপনাদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যে ঘটনা ঘটে, সত্যি ঘটনা আপনারা অবশ্যই তুলে ধরবেন। তখন আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। কিন্তু অনেক সময় আছে দুই একজন করে কি, ঘটনা সত্যি নয়, কিন্তু প্রকাশ করে দেয়। সেসময় ইনভেস্টিগেশন করে দেখা যায় যে ঘটনা সত্যি নয় তখন অসুবিধা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশের সাংবাদিকরা এর সুবিধাটা নেয়। যেহেতু জানেন যে তারা মিথ্যা সংবাদ বেশি পরিবেশন করে।
সভায় আইনশৃঙ্খলাসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। আজকের মতবিনিময় শুধু এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়, সব বিষয়ে এখানে আলোচনা হয়েছে। সভায় আমাদের কী কী সমস্যা হচ্ছে, কীভাবে এটা সমাধান করা যায়, এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকায় শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ছোট ভাই এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা উচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ সময় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন ও রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র-বাসস