শিরোনাম :
কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু কালিয়াকৈরে সিএনজি-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের লং মার্চ শুরু আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার উত্তরবঙ্গের প্রথম সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র পাবনায়, মোবারকপুরে কূপ খনন ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের -ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

ঈদে সাধারণ নাগরিকদের নতুন নোট দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • ১১:৩৩ এএম, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
ছবি: বিকে

।।বিকে রিপোর্ট।।
সাধারণত প্রতি ঈদে নতুন নোট ফাড়লেও এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ নাগরিকদের জন্য এবার নতুন নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঠিকই বিপুল পরিমাণ নতুন টাকার নোটের ব্যবস্থা করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এক অভ্যন্তরীণ আদেশও জারি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নোট বিতরণ শুরু করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিচালক থেকে শুরু করে যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রত্যেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন। আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাধারণ কর্মচারীদের জন্যও সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বরাদ্দ আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

প্রতিবছর ঈদের সময় টাকার নতুন নোটের বেশ চাহিদা থাকে। ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট বেশ জনপ্রিয়। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার বেচাকেনার অস্থায়ী দোকান আছে। মূলত ফুটপাতেই এ ব্যবসা বেশি চলে। ঈদের সময় ফুটপাতের এই ব্যবসা বেশ জমজমাট থাকে। কিন্তু কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদের সময় নতুন নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একটি নোট ডিজাইন থেকে বাজারে ছাড়তে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। তাই গত বছর থেকেই এ রীতি বদলানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন নোট বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এর জন্য আলাদা কোনো উপলক্ষের প্রয়োজন নেই। বাজারে ব্যবহারের অনুপযোগী নোটগুলো ধীরে ধীরে নতুন নোট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।

একইসঙ্গে খোলা বাজারে নতুন নোট বিক্রির সঙ্গে ব্যাংকের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কিছু কর্মকর্তা ব্যাংক খাতের সংস্কার চান, কিন্তু নিজেদের সংস্কার চান না। বাংলাদেশ ব্যাংক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে সবাই একযোগে এর প্রতিবাদ করেন। নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে চান, কিন্তু নিজেরা ঠিকই নগদ টাকার ব্যবস্থা করে নেন।

প্রশ্ন উঠেছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতার চেয়ে বেশি নতুন নোট নিতে পারবেন। অনেকে মনে করেন, এই নতুন নোট অবৈধ উপায়ে লেনদেনের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসায়ীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান ও ফার্মগেট এলাকায় সারা বছরই নতুন নোট কেনাবেচার অস্থায়ী দোকান বসে। ঈদের সময় এই ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না পেলে বাধ্য হয়ে এই ফুটপাতের দোকান থেকে চড়া কমিশনের বিনিময়ে টাকা কেনেন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ঈদের আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দেবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech