।। বিকে ডেস্ক ।।
আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ ও ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। এর আগে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রি অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় দেশের আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন ও বীমা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকির চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারি অর্থের ব্যবহার অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঝুঁকি কমাতে সরকার মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন সমন্বয়ের ফলে ডিজেলের মুল্য লিটার প্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ-আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দরের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করা হলে ডিজেলের মুল্য লিটার প্রতি প্রায় ২০৫ টাকা হওয়ার কথা। তবে সাধারণ মানুষ, গণপরিবহন এবং সেচনির্ভর কৃষকের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এর চেয়ে অনেক কম দামে ডিজেল সরবরাহ করছে। ফলে মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো মূল্যভিত্তিক চাপ সরাসরি ভোক্তার ওপর না দিয়ে সরকার এখনো উল্লেখযোগ্য অংশ বহন করছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়লেও, জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। ফলে বিপিসি অতীতে অর্জিত অতিরিক্ত অর্থ ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় লোকসান সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে।
সুত্রঃ বাসস