।।বিকে রিপোর্ট।।
আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি- বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার ৫ আগষ্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণসমাবেশ শুরু হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে গণসমাবেশে যোগ দিয়েছেন হাজার-হাজার নেতাকর্মী।
বৃষ্টি নামলেও তা উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক ইতোমধ্যে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এখনো অনেক নেতাকর্মী সমাবেশে দলে দলে যোগ দিচ্ছেন।
বৃষ্টির মধ্যেই কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট ও আশেপাশে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাপের পরিণতি একদিন না একদিন অনিবার্যভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়। সময়ের ব্যবধানে হলেও অন্যায়ের পতন অবশ্যম্ভাবী। সরকার যদি এখনও বাস্তবতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের পতন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যেমন শিশু থেকে প্রবীণ-সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিলেন, তেমনি ভবিষ্যতের আন্দোলনেও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।’ এ সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জেল-জুলুম কিংবা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না, জাতির মুক্তির প্রয়োজনে ফাঁসির রশিকেও তারা ফুলের মালা হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। ফাঁসির মঞ্চও তাদের ন্যায়ের সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কেউ যদি একই ধরনের আচরণ করেন, তাহলে জনগণ তাদেরও ফ্যাসিবাদী বলেই আখ্যায়িত করবে। তাই জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকে স্থান দেওয়া হবে না।
জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের জনমত ও গণরায় মেনে নিন। জনগণের রায়কে অপমান করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায় অস্বীকার করেছে, তাদের শেষ পর্যন্ত অপমানজনকভাবেই বিদায় নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে আপসের জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। তবে জনগণের গণরায় রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবেন না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণরুম ও গেস্টরুমের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরে দাম বাড়িয়ে সংকট নিরসনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এটি ফ্যাসিবাদী চর্চারই আরেকটি বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া অতীতে জনগণের সম্পদ লুটপাটে জড়িতদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।