Breaking News:


শিরোনাম :
চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড : ডিবি দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্ট ক্লাবে শেখ হাসিনার অডিও বার্তা ওয়াশিংটন পোস্টের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন- জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, ‘গণিত শেখো স্বপ্ন দেখো’ স্লোগানে ঢাকায় গণিত উৎসব শুরু লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন ছেলের মার্কা শাপলা কলি, বাবা ভোট চাইছেন ধানের শীষে কোনো অসৎ-দুর্নীতিবাজের সুন্দর গল্প বিশ্বাস করা যাবে না এবার যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান সংকটাপন্ন ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অবসায়নে চূড়ান্ত শুনানি শুরু আইসিজে-তে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

ওয়াশিংটন পোস্টের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন- জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র,

  • আপলোড টাইম : ১২:৩৯ পিএম, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

বৃহস্পতিবার ‘ইউ.এস. সিকস টু বি ‘ফ্রেন্ডস’ উইথ বাংলাদেশ’স ওয়ান্স-ব্যান্ড ইসলামিস্ট পার্টি’ শিরোনামে এক দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই গণমাধ্যম।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ও কোণঠাসা থাকা ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এবং দলটিকে ‘বন্ধু’ হিসেবে পেতে আগ্রহী ঢাকার মার্কিন কূটনীতিকরা। ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা কিছু অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নতুন কূটনৈতিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঢাকার একজন মার্কিন কূটনীতিক মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে অনেকটা ‘ইসলামপন্থী ধারায়’ মোড় নিয়েছে। ওই কূটনীতিক পূর্বাভাস দেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো ফল করবে।

দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, জামায়াতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এ নমনীয় মনোভাব দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করতে পারে। ভারত ঐতিহাসিকভাবেই জামায়াতকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে থাকে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, তবুও মার্কিন কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন যে, জামায়াত যদি ক্ষমতায় এসে কট্টর শরিয়াহ আইন বা এমন কোনো বিতর্কিত নীতি চাপিয়ে দেয় যা ওয়াশিংটনের স্বার্থবিরোধী, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। নিচে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো-

বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দলটি আগামী মাসের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জনের পথে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর হাতে আসা কিছু অডিও রেকর্ডিং থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জামায়াতে ইসলামী দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ‘লৌহমানবী’ খ্যাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে দলটি শরিয়াহ আইন এবং শিশুদের দেখাশোনার সুবিধার্থে নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে কথা বললেও, সম্প্রতি তারা জনসম্মুখে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য দুর্নীতি নির্মূল করা বলে তারা দাবি করছে।

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন কূটনীতিকরা পুনরুত্থিত এই ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১ ডিসেম্বর নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত একজন মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামি ধারায় ঝুঁকেছে’ এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো করবে’।

অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী ওই কূটনীতিক বলেন, “আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই।” তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান তারা জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের টকশোতে আমন্ত্রণ জানাবেন কি না। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন? তারা কি আপনাদের অনুষ্ঠানে আসবে?”

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করা ওই কূটনীতিক জামায়াত কর্তৃক শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের হাতে এমন কিছু ‘লিভারেজ’ বা নিয়ন্ত্রণমূলক কৌশল রয়েছে যা তারা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়াহ চাপিয়ে দিতে পারবে। যদি তারা উদ্বেগের কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে পরদিনই তাদের ওপর ১০০ শতাংশ ট্যারিফ (শুল্ক) আরোপ করা হবে’।

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ডিসেম্বরের ওই আলোচনাটি ছিল মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি রুটিনমাফিক অফ-দ্য-রেকর্ড বৈঠক’। তিনি আরো যোগ করেন, সেখানে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ দলের পক্ষ নেয় না। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গেই তারা কাজ করবে।

জামায়াতে ইসলামীর মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে জানান, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের মন্তব্য নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কূটনীতিকরা বাংলাদেশের সংকটকালীন ও রূপান্তরকালীন এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে দেখছেন- সে বিষয়টি এতদিন অপ্রকাশিত থাকা এসব মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। হাসিনার পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এসেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তা কয়েক দশকের অস্থিরতার পর বাংলাদেশের জন্য একটি চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল?

এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাত নিয়ে মতবিরোধ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি, ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্য চুক্তি ঝুলে থাকার ফলে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই আবহে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সখ্য ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, জামায়েত বহু বছর ধরেই বাংলাদেশে ভারতের উদ্বেগের বিষয়। দলটিকে দিল্লি পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। এ ছাড়া ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগও রয়েছে। যদিও মনিকা শাই জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তবে মনিকা শাই তার বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের নির্বাচন ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

মূলধারার রাজনীতিতে জামায়াতের প্রবেশ: রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করা বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল এক চরম অস্থিরতার মধ্যদিয়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী কয়েক দশকে ঢাকাকে বহু সামরিক অভ্যুত্থান, একনায়কতন্ত্র এবং সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর উত্তাল বেসামরিক শাসন প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। দেশটিকে তার বৃহৎ প্রতিবেশী- ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়েছে। এরমধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২৫০০ মাইল। বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে। ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল হাসিনা। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে তিনি দিল্লির অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয়ে আছেন। গত নভেম্বরে তাকে অভ্যুত্থানে ১৪০০ মানুষ হত্যায় আদেশ দেয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্তর্বর্তী সরকারে তরফে বারবার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত সরকার।
ডিসেম্বরের সেই বৈঠকে জনৈক মার্কিন কূটনীতিক মন্তব্য করেন, হাসিনার দণ্ডাদেশ ছিল একটি রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, কিন্তু তিনি দোষী এবং তারা সেটি প্রমাণ করেছে। নিজেদের এখতিয়ারের মধ্য থেকেই তারা এটি করেছে, যা বেশ চিত্তাকর্ষক।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশকে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের (ট্রানজিশন) জন্য প্রস্তুত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সরকার গঠনের পর ড. ইউনূস বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি পরিবার। আমাদের এটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ হবে এবং তা সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কে কী বললো তাতে কিছু যায় আসে না, নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবেÑ একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। হাসিনা সরকারের আমলে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর, নির্বাচনী প্রচারণায় দলটি নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং বাংলাদেশের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মুবাশার হাসানের মতে, জামায়াত এখন একটি মূলধারার রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানান, তার দল দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন- এই চার মূলনীতিকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, জামায়েতের শরিয়া আইন কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
আসন্ন এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো বিএনপি। লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদি তার দল নির্বাচনে জয়লাভ করে তবে তিনিই হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি’র কৌশল সম্পর্কে অবগত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির মতে, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলাফল করবে। তবে দলটির সঙ্গে বিএনপি’র জোট করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি বিএনপি’র সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। গত জানুয়ারি মাসে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আমরা একসঙ্গেই সরকার পরিচালনা করবো। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক ছিল জামায়াত।

ওয়াশিংটন পোস্টকে জামায়াতের ওই মুখপাত্র জানান, ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি এবং ঢাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে জামায়াত। এ ছাড়া, গত শুক্রবার দলটির শীর্ষ নেতা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন।

ওয়াশিংটনের বৈঠকগুলো নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হওয়া বৈঠকগুলোকে তারা নিয়মিত কূটনৈতিক কাজের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউএসটিআর (মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর) এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
মোহাম্মদ রহমান ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, গত আগস্টে জামায়াত আমীরের ওপেন হার্ট সার্জারি পরবর্তী সময় ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ঢাকার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ভবিষ্যতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও দূতাবাসের কর্মকর্তারা যোগাযোগ শুরু করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক আরও বলেন, আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই, যাতে আমরা যেকোনো প্রয়োজনে ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলতে পারিÑ আপনারা এইমাত্র যা বললেন, তার সম্ভাব্য পরিণতি কিন্তু এমন হতে যাচ্ছে।
ওই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় আসে এবং এমন কোনো নীতি বাস্তবায়ন করে যা ওয়াশিংটনের কাছে চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য বা সাংঘর্ষিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিশাল পোশাক শিল্পের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অর্থনৈতিক সতর্কতা

ঢাকার বৈঠকে ওই মার্কিন কূটনীতিক সতর্ক করেন যে, জামায়াত যদি ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর আঘাত আসবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট রফতানির ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। যদি নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়া হয় বা তাদের বের করে দেয়া হয়, তবে অর্ডার আসা বন্ধ হয়ে যাবে। আর অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে’। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জামায়াত এমনটা করবে না কারণ দলটিতে অনেক শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ রয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মোট রপ্তানির ২০ শতাংশই মূলত সামাজিক ও উদারপন্থি বিভিন্ন পোশাক বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল। যদি বাংলাদেশ নারীদের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা কাজ করার নিয়ম বেঁধে দেয়, অথবা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে বের করে দেয় অথবা শরিয়া আইন জারি করে, তাহলে দেশটিতে আর কোনো নতুন ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আসবে না। আর যদি নতুন কোনো ক্রয়াদেশ না আসে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির অস্তিত্বই সংকটে পড়বে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তবে জামায়াত এমন কিছু করবে না। কারণ দলটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা শিক্ষিত ও বিচক্ষণ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। যদি তারা কোনো ভুল পথে যায় তাহলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা আমরা তাদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরবো।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে নয়াদিল্লির উদ্বেগ প্রশমিত করার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারত ২০১৯ সালে নিজেদের অধীনে থাকা জম্মু-কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামীর শাখাকে ‘বেআইনি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং ২০২৪ সালে আবারো সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।

কুগেলম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক যদি আরও ভালো অবস্থায় থাকতো, তবে হয়তো নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা আরও বেশি আগ্রহী হতো। কিন্তু বর্তমানে এই অংশীদারিত্বে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করায় কুগেলম্যান মনে করেন না যে, মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতীয় উদ্বেগের প্রতি খুব একটা মনোযোগী বা সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech