।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
কাতারের রাজধানী দোহাতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দোহা।
মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
হামলা এমন সময় ঘটেছে যখন হামাসের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করছিলেন। হামাসের এক সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, হামাসের আলোচক দলকে নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, তারা হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
দখলদার ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, হামাসের রাজনৈতিক শাখার কয়েকজন সদস্যকে লক্ষ্য করে আবাসিক ভবনে চালানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। এটি কাতারের নাগরিক এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গুরুতর হুমকি।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের এই ধরনের বেপরোয়া আচরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তাদের ধারাবাহিক ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
একই সঙ্গে কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও কাতার রুখে দাঁড়াবে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত জানানো হবে।
আইডিএফ বলেছে, ইসরায়েলের ওপর ৭ অক্টোবর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং এ হামলার জন্য দায়ী এমন বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব নেতা বেশ কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, বৈঠকটিতে হামাসের অন্যতম প্রধান নেতা খালেদ মাশাল উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে জর্ডানে একবার তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের হামলার পর নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ।
গতকাল ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে জর্ডান কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে একটি বিপজ্জনক এবং অগ্রহণযোগ্য উস্কানিমূলক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতও এই ঘটনার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে কাতার যে পদক্ষেপ নেবে তার প্রতি নিজেদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন । এদিকে ওমানের সুলতান এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।