।।বিকে রিপোর্ট।।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে রিম্পা (২১) নামে এক বন্দী দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুজন মেট্রন ও পাঁচ মহিলা কারারক্ষীসহ মোট সাতজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার ১৮ জুলাই সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হলেন- মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেট্রন মেরিনা, মেট্রন রেহেনা এবং মহিলা কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। পলাতক ওই কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজা পেয়ে তিনি কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গণনার সময় রিম্পার অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর কারাগারের ভেতর ও আশপাশে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, ওই দিন বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্দিদের কক্ষে পাঠানোর (লকআপ) নিয়ম থাকলেও রিম্পাসহ তিন বন্দির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। এই নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তিনি কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পলাতক বন্দীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে একজন বন্দী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন- সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান মো. জান্নাতুল ফরহাদ।
এদিকে ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ পুরো কারাগারে তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বন্দীর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে কোনাবাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা করে কারা কর্তৃপক্ষ।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিকেলে থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে খুঁজে বের করতে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার আসামির পলায়নের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমরা এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত আছি, পরবর্তীতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারা অভ্যন্তরের শৃঙ্খলা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে লকআপের নিয়ম না মানার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।